চট্টগ্রাম ও রাজশাহী দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক টুইন্টি টেন ম্যাচে, চট্টগ্রাম প্রথম ছয় ওভারে ৩১ রান করে কোনো উইকেট না হারিয়ে শক্তিশালী পাওয়ার প্লে দেখিয়েছে। তবে লক্ষ্য ছিল ১৩৪ রান, যা শেষ পর্যন্ত অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম দল প্রথম ওভারগুলোতে রোলার‑কোস্টার বোলিংয়ের মুখোমুখি হয়, রাজশাহীর বোলাররা নিয়ন্ত্রিত গতি ও লাইন বজায় রেখে শটগুলোকে সীমাবদ্ধ করে। ফলস্বরূপ, ছয় ওভারে ৩১ রান ছাড়া কোনো উইকেট না নিয়ে দলটি পাওয়ার প্লে শেষ করে, যা টার্গেটের তুলনায় কম।
রাজশাহী দল ১৫ ওভারে ৮৫ রান সংগ্রহ করে মাঝারি গতি বজায় রাখে, তবে শেষ পাঁচ ওভারে অতিরিক্ত ৪৮ রান যোগ করে মোট ১৩৩ রান তৈরি করে। এই রানে দলটির সর্বোচ্চ স্কোর ৪১ রান তানজিদের, যিনি ব্যাটিংয়ে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন।
শরীফুলের বোলিং পারফরম্যান্সে তিনি মাত্র তিন রানই দিতে পেরেছেন, তবে সিজনে তার ২৪টি উইকেটের সংখ্যা তাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটধারী করে তুলেছে, যা তাসকিন আহমেদের ২৫ উইকেটের পরেই আসে। তার এই সাফল্য দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাপোর্ট করেছে।
রাজশাহী ব্যাটিংয়ে জিমি নিশাম ১৬ ওভারে ৯৮/৬ স্কোরে ফিরে আসেন, তবে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় ছয় রান করে আউট হন। একই ওভারে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ধারাবাহিক দুইটি ছক্কা মারেন, যা দলের রেটকে ত্বরান্বিত করে।
অন্যদিকে, তানজিদ হাসান ৩০ বলে ৩৬ রান সংগ্রহ করেন, জিমি নিশাম এক বলে এক রান করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থায় থাকেন। উভয়ই মাঝারি গতি বজায় রেখে দলের স্কোরে অবদান রাখেন।
অ্যাকবর আলি ১০ম ওভারে ক্যাচে আউট হন, মাত্র তিন রান করে। তার চতুর্থ উইকেট ৬৭ রানে আসে, যা রাজশাহীর চ্যাম্পিয়নশিপের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তানজিদ হাসান ৩০ বলে ৩৬ রান করে দলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
মেহেদি হাসানের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা আকবর আলির চমকপ্রদ ক্যাচে থেমে যায়। নবম ওভারের তৃতীয় বলেই অধিনায়ক নাজমুলকে বোল্ড করে, চতুর্থ বলেই মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে আউট করা হয়। পরের বলটি আকবর আলি রক্ষা করেন, ফলে রাজশাহীর স্কোর ৪৯ রানে তিনটি উইকেট হারায়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের উদ্বোধনী জুটি—সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান—৫.৩ ওভারে মাত্র ৩০ রান যোগ করতে পারেন। ফারহান ১৯ বলে ২১ রান করেন, যা দলের দ্রুত গতি গড়ে তুলতে যথেষ্ট না হয়ে থাকে।
বিপিএল ম্যাচের পাশাপাশি, বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের অধিনায়ক দলকে অপ্রত্যাশিতভাবে অর্ধেকের পরই পরিত্যাগ করতে হয়। অর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টি খেলায় বাধা সৃষ্টি করে, ফলে দলটি রিক্যাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম প্রথমে শক্তিশালী পাওয়ার প্লে দেখিয়েও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, আর রাজশাহী ধারাবাহিক রান বাড়িয়ে ১৩৩ রানে জয়লাভ করে। শীর্ষ পারফরম্যান্সে তানজিদের ৪১ রান, শারিফুলের ২৪টি উইকেট এবং সাকলাইনের দুইটি ছক্কা উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী ম্যাচে উভয় দলই তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করে শীর্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।



