পদ্মা সেতু ২৫ জুন ২০২২ তারিখে উদ্বোধনের পর থেকে সঞ্চিত টোলের মোট পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা দেশের সেতু নেটওয়ার্কে রাজস্ব সংগ্রহের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
সেতুটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ‑পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপন করে, ফলে ঐ অঞ্চলগুলোতে পণ্য ও যাত্রী চলাচল সহজতর হয়েছে।
উদ্বোধনের পর থেকে গাড়ি, ট্রাক ও বাসের পারাপার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এর সঙ্গে টোল থেকে প্রাপ্ত আয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা সেতুর আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করছে।
সময় সাশ্রয় এবং যাতায়াতের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সেতু নির্মাণ ও পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত শ্রমিক ও সহায়ক কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের মোট দেশীয় উৎপাদনে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও শিল্পজাত পণ্যের পরিবহনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে; পণ্যগুলো পূর্বে দীর্ঘ সময় ও উচ্চ খরচে গন্তব্যে পৌঁছাত, এখন সেতুর মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।
এই সাফল্যের পেছনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কৌশলগত নির্দেশনা এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সেতুর দু’প্রান্তে—মাওয়া ও জাজিরা—প্রতিষ্ঠিত আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা টোল আদায় প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে; গাড়ি চালকদের এখন টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না।
রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) কার্ডের ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কাটার সুবিধা দেয়, ফলে গতি বাড়ে এবং মানবিক ত্রুটির সম্ভাবনা কমে।
ডিজিটাল টোল সিস্টেমের এই আধুনিকীকরণ এবং ব্যবহারকারীদের ধারাবাহিক সহযোগিতা মিলিয়ে সেতুর আর্থিক লক্ষ্য দ্রুত অর্জিত হয়েছে।
টোল সংগ্রহের এই মাইলফলক অর্জনে গাড়ি মালিক, চালক, শ্রমিক, সেতুর দুই পার্শ্বের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত অপারেটর, সাইট অফিসের কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান অপরিসীম, এ জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভবিষ্যতে টোল আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, বিশেষত ই‑কমার্স ও লজিস্টিকস সেক্টরের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সেতুর ব্যবহার বাড়বে।
তবে টোল সংগ্রহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, টেকনোলজি আপডেট এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকবে; এই দিকগুলোকে অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে আয় হ্রাসের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, পদ্মা সেতু দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করছে; টোলের মাধ্যমে সৃষ্ট আয় শুধু সেতুর নিজস্ব ব্যয়ই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
সেতুর টোল সংগ্রহের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও ডিজিটাল সেবা, স্বয়ংক্রিয় গেট এবং স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে উন্নত করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা দেশের বাণিজ্যিক পরিবহনকে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী করে তুলবে।



