ইউনাইটেড স্টেটসের ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ঢালিতে একটি গাছের শিকড়ে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত গল্প। ৪,৮০০ বছরের বেশি বয়সী মেথুসালাহ নামের গ্রেট বেসিন ব্রিসলকোন পাইন, যা প্রাচীন মিশরের প্রথম পিরামিডের নির্মাণের আগে থেকেই পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছে, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি প্রেমীদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। এই গাছের দীর্ঘায়ু ও অন্যান্য প্রাচীন উদ্ভিদের বেঁচে থাকার কৌশল নিয়ে নতুন প্রকাশিত বই ‘ইন বোটানিক্যাল টাইম’ (লেখক ক্রিস্টোফার উডস, প্রকাশক চেলসি গ্রিন, মূল্য $৪০) বিশদে ব্যাখ্যা করে।
বইটি প্রথমে মেথুসালাহের জীবনযাত্রা তুলে ধরে। গাছটি প্রতি শতকে মাত্র ২.৫ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পায়, ফলে তার শক্তি শীতল তাপমাত্রা, পুষ্টিহীন মাটি এবং তীব্র বাতাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রীভূত হয়। এই ধীরগতির বৃদ্ধি গাছকে দীর্ঘ সময়ের জন্য টিকে থাকতে সাহায্য করে, কারণ দ্রুত বৃদ্ধি প্রায়শই রোগ ও পরিবেশগত চাপের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, গাছের জেনেটিক পরিবর্তনগুলোও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘায়ুতে ভূমিকা রাখে।
ব্রিসলকোন পাইন ছাড়াও, বইতে ক্লোনিং পদ্ধতিতে বেঁচে থাকা উদ্ভিদগুলোর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। সুইডেনে একটি নরওয়ে স্প্রুস (পিসো এবিস) প্রায় ৯,৫০০ বছর ধরে তার মূলের মাধ্যমে নতুন গাছের দেহ গড়ে তুলছে। মূল থেকে নতুন গাছের কাণ্ড উদ্ভব হওয়ায় মূল গাছের মৃত্যু হলেও পুরো প্রজাতি বেঁচে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে ক্লোনাল বৃদ্ধি বলা হয়, যা উদ্ভিদকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই জিনগত গঠন বজায় রাখতে সক্ষম করে।
ইউটাহের প্যান্ডো গাছের গোষ্ঠী আরেকটি চমকপ্রদ উদাহরণ। উপরের দিকে ৪৭,০০০টি আলাদা দৃষ্টিতে পৃথক শাখা-প্রশাখা দেখা যায়, তবে মাটির নিচে সবগুলো একই মূলের শাখা থেকে উদ্ভূত, ফলে পুরো গোষ্ঠী একক জৈবিক সত্তা হিসেবে গণ্য হয়। প্যান্ডো প্রায় ৮০,০০০ বছর বয়সী বলে অনুমান করা হয়, যা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো জীবন্ত প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করে।
উডসের গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘায়ু গাছগুলো সাধারণত কঠিন পরিবেশে বসবাস করে, যেখানে অন্যান্য উদ্ভিদ দ্রুত মরে যায়। তাদের বেঁচে থাকার কৌশলগুলো—ধীর বৃদ্ধি, জেনেটিক অভিযোজন, এবং ক্লোনাল পুনর্জন্ম—প্রকৃতির বেঁচে থাকার বিভিন্ন রূপকে তুলে ধরে। এই গাছগুলো কেবলমাত্র প্রাকৃতিক ঐতিহ্য নয়, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য মূল্যবান তথ্যের উৎস, যা ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে।
‘ইন বোটানিক্যাল টাইম’ পাঠকদেরকে এই প্রাচীন গাছের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয় এবং দেখায় কীভাবে প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মে বেঁচে থাকে। বইটি বিজ্ঞানপ্রেমী, উদ্ভিদবিদ্যা শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য সমানভাবে উপযোগী, কারণ এটি জটিল বৈজ্ঞানিক তথ্যকে সহজে বোধগম্য করে উপস্থাপন করে।
প্রাচীন গাছের বেঁচে থাকার গোপনীয়তা জানার মাধ্যমে আমরা আধুনিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নতুন ধারণা পেতে পারি। আপনার আশেপাশের কোনো প্রাচীন গাছের গল্প জানেন? সেগুলোকে রক্ষা করার জন্য আপনি কী পদক্ষেপ নিতে পারেন?



