দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার গগন দীপ জিন্দাল মঙ্গলবার একটি মন্তব্য করেন, যার ফলে দেরি না করে সঞ্জয় কাপুরের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় উইল পরীক্ষা ও ফোরেনসিক বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে। এই মন্তব্যটি ১০ সেপ্টেম্বরের হাইকোর্টের আদেশের ওপর ভিত্তি করে করা হয়, যেখানে উভয় পক্ষকে কোনো নথি পর্যালোচনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সঞ্জয় কাপুর, যিনি ৩০,০০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ব্যবসা সাম্রাজ্যের মালিক ছিলেন, তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। তার তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া কাপুরের বিরুদ্ধে তার দুই সন্তান, সামাইরা এবং কিয়ান কাপুর, যাঁরা করিশ্মা কাপুরের সঙ্গে বিবাহিত, উইলের সত্যতা ও স্বাক্ষরের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং ফোরেনসিক পরীক্ষা দাবি করে।
সামাইরা ও কিয়ান ২০২৩ নভেম্বর থেকে আদালতে আবেদন করে, যাতে উইলটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। তারা যুক্তি দেন যে উইলে উল্লেখিত ব্যবসা সম্পদের মূল্য ও স্বাক্ষরের বৈধতা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে, যা একাধিক আর্থিক নথিতে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রিয়া কাপুর এবং তার আইনজীবী আজারিয়াস উইলের বৈধতা রক্ষা করতে চায় এবং সামাইরা-কিয়ানের আবেদনকে অযোগ্য বলে দাবি করে।
মামলার মূল বিষয় হল উইলে প্রিয়া কাপুরকে একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা, যেখানে সঞ্জয়ের দুই সন্তান ও তার মা রানি কাপুরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদুপরি, উইলে শ্রদ্ধা সুরি মারওয়াকে এক্সিকিউটর হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, তবে তিনি এই দায়িত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন।
দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার গগন দীপ জিন্দাল উল্লেখ করেন যে, ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশের ধারা ৮ অনুযায়ী উভয় পক্ষই নথি পর্যালোচনা করতে পারবে। তিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত প্রিয়া কাপুরের বিরোধী অবস্থান সত্ত্বেও উইলটি পরিদর্শন করা সম্ভব। আদালত এই বিষয়ে কোনো বাধা না দিয়ে, পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য ফোরেনসিক পরীক্ষার জন্য পথ খুলে দিয়েছে।
প্রিয়া কাপুরের আইনজীবী দল এবং আজারিয়াসের প্রতিনিধিরা এখনও আবেদনটির বৈধতা নিয়ে তর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, সামাইরা ও কিয়ানের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, বিচারপতি জ্যোতি সিংহের ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশে স্পষ্টভাবে নথি পর্যালোচনা অনুমোদিত হয়েছে। তারা অতিরিক্তভাবে একটি যৌথ রেজিস্ট্রার আদেশের উল্লেখ করেন, যেখানে অন্য একটি মামলায় নথি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এবং রেজিস্ট্রার এই অবস্থানকে সমর্থন করেন।
আলোচনার পর রেজিস্ট্রার একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিরতি দেন এবং ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মামলার পরবর্তী যুক্তি ও সিদ্ধান্তের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এই তারিখে উভয় পক্ষের শেষ যুক্তি শোনা হবে এবং আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।
উইলের বৈধতা, সঞ্জয়ের স্বাক্ষরের সত্যতা এবং নথি প্রস্তুতির সময়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে। যদি ফোরেনসিক পরীক্ষা করা হয়, তবে তা উইলের সত্যতা নিশ্চিত করতে বা খণ্ডন করতে পারে, যা উত্তরাধিকারীর ভাগে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এই মামলাটি শুধু সম্পদের ভাগ নয়, বরং সেলিব্রিটি পরিবারে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রকাশ ঘটিয়েছে। করিশ্মা কাপুরের সঙ্গে সঞ্জয়ের সন্তানদের নাম মিডিয়ায় ঘন ঘন উঠে এসেছে, এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্পদ ভাগের ওপর জনসাধারণের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের ফলে, ফোরেনসিক পরীক্ষা ও নথি পর্যালোচনার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের পরবর্তী রায়ের অপেক্ষা চললেও, উভয় পক্ষই এখনো তাদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, সঞ্জয় কাপুরের ব্যবসা সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ ভাগাভাগি কীভাবে হবে তা স্পষ্ট হবে।



