27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংক শিপবিল্ডিং খাতের ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃসিডিউলিং সুবিধা ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক শিপবিল্ডিং খাতের ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃসিডিউলিং সুবিধা ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ শিপবিল্ডিং শিল্পের আর্থিক সমস্যায় ভুগছে এমন রপ্তানি‑মুখী ও দেশীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ঋণ পুনঃসিডিউলিং ও পুনর্গঠন সুবিধা প্রদান করার নির্দেশ জারি করেছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শিল্পকে কার্যকর রাখার পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ পুনরুদ্ধার উন্নত করা।

সুবিধা গ্রহণের জন্য ঋণগ্রহীতাদের মোট বকেয়া ঋণের ৩ শতাংশ প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদন সময়ে প্রদান করতে হবে, বাকি অংশ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

ডাউন পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ঋণগ্রহীতা সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনর্গঠন বা পুনঃসিডিউল করতে পারবে, যার মধ্যে দুই বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গ্রেস পিরিয়ডের দৈর্ঘ্য ও পুনর্গঠনের শর্তাবলী ঋণগ্রহীতার পরিশোধক্ষমতা ও ব্যবসার সম্ভাবনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

গ্রেস পিরিয়ডে সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে, আর ব্লকড সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে, অতিরিক্ত কোনো সুদ আরোপ না করে।

আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ জুন ২০২৬ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্টসহ আবেদন জমা দিতে হবে। ব্যাংকগুলোকে আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল শিডিউলড ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে যে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত শ্রেণীবদ্ধ ঋণ হিসেবে চিহ্নিত শিপবিল্ডারদের প্রকৃত সমস্যার ভিত্তিতে পৃথকভাবে আবেদন বিবেচনা করতে হবে।

যেসব ঋণ ২০২৩ সালের পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী ইতিমধ্যে পুনর্গঠিত হয়েছে, সেসবের জন্য অতিরিক্ত দুই বছরের সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট প্রদান করতে হবে।

এই ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের ব্যাঘাত, ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিপবিল্ডারদের নগদ প্রবাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং তা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

তবে, জালিয়াতি, ইচ্ছাকৃত ডিফল্ট বা ঋণ গঠনমূলক চক্রান্তে লিপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

প্রত্যেক আবেদন অনুমোদনের আগে ব্যাংককে বিশেষ পরিদর্শন করে নিশ্চিত করতে হবে যে, ঋণগ্রহীতা সত্যিই বহিরাগত কারণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সুবিধা শিপবিল্ডিং সেক্টরের দেউলিয়া হওয়া রোধে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণগ্রহীতাদের নগদ প্রবাহ পুনরুদ্ধার না হলে পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার হয় এবং জাহাজের চাহিদা বাড়ে, তবে শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব। অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বৈশ্বিক মন্দা অব্যাহত থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন সুবিধা শিপবিল্ডিং খাতের জন্য একটি কাঠামোগত সহায়তা প্রদান করে, তবে কঠোর যোগ্যতা মানদণ্ড এবং পূর্বপরীক্ষা প্রক্রিয়া আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করতে পারে; তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো আবেদন করে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments