২৪ বছর বয়সী অস্কারজয়ী গায়িকা বিলি ইলিশ ১৭ জানুয়ারি এটলান্টার হায়াট রেজেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এমএলকে জে. আর. বেলভড কমিউনিটি পুরস্কার ফর এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস গ্রহণ করেন। একই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও পরিবেশ নীতির ওপর তীব্র সমালোচনা করেন, যা সাম্প্রতিক আইসিএ (ICE) অপারেশনের ফলে এক আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে।
ইলিশের চেঞ্জমেকার প্রোগ্রাম, যা তার “হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট” ট্যুরের টিকিটের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করে, ক্লাইমেট চেঞ্জ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশ ন্যায়বিচার সংক্রান্ত অলাভজনক সংস্থাগুলিকে সমর্থন করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১১.৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দান করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণের সময় ইলিশ প্রকাশ করেন যে তিনি এই সম্মান পেয়ে নিজেকে অযোগ্য মনে করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ ন্যায়বিচার অর্জন করা অতীতের চেয়ে কঠিন, কারণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। তার এই মন্তব্যগুলোকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করা উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ইলিশের সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মিনেসোটা রাজ্যে আইসিএয়ের এক অপারেশন, যেখানে আইসিএ কর্মকর্তা জোনাথন রসের হাতে রেনি নিকোল গুড, তিন সন্তানের মা, নিহত হন। এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসনের একজন মুখপাত্র ইলিশের মন্তব্যকে “অপ্রয়োজনীয় রেটোরিক” বলে সমালোচনা করলেও, গায়িকা তার অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রাখেন।
তার বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিকদের জবরদস্তি করে গ্রেফতার করা হচ্ছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা হিংসা ও হত্যা মুখোমুখি হচ্ছে, নাগরিক অধিকার হ্রাস পাচ্ছে এবং ফসিল জ্বালানি ও প্রাণী কৃষিকাজের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে বরাদ্দ করা তহবিল কেটে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার কেবল ধনী শ্রেণীর জন্যই সুবিধাজনক হয়ে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিলি ইলিশের এই মন্তব্যগুলো পরিবেশ ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি তার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবিক নীতির প্রতি দায়িত্বশীলতা আহ্বান জানান। তার এই অবস্থান ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারক ও জনসাধারণের মধ্যে আরও গভীর বিতর্কের সূচনা করতে পারে।



