ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ঢাকার লালমাটিয়ার দোয়েল টাওয়ারে ১,২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট প্রদান করার সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্তটি জানুয়ারি ২০ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফ্ল্যাটের জন্য এক কোটি টাকা বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থের অনুমোদন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনপত্রের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পূর্বশর্ত হিসেবে ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
ধার্য করা ফ্ল্যাটটি দোয়েল টাওয়ার, লালমাটিয়ার ১২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট, যা কেনা ও সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরে আবাসিক ভবনের জন্য নির্ধারিত ছয় কোটি টাকার মধ্যে থেকে এই এক কোটি টাকা ব্যবহার করা হবে।
অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শর্তে বলা হয়েছে, সরকারী আর্থিক বিধি-নিয়মের পূর্ণ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ২০২৫-২৬ সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
এদিকে, ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদিরকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম শহরে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের তথ্য ১৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মো. রফিকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত হয়।
প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে ওমরকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের মেয়াদে এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগের শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছে, তিনি এই পদে যোগদানের আগে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কোনো কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করবেন। তবে ভাইয়ের এই পদে যোগদান নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা এখনও অজানা।
হাদির পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং ভাইয়ের বিদেশি নিয়োগ দুটোই সরকারী সহায়তার নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পদক্ষেপই সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবারিক সমর্থনের দিক থেকে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে যখন সরকারী সম্পদের ব্যবহার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
হাদির পরিবার থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না পাওয়া সত্ত্বেও, সরকারী সূত্রগুলো এই দুইটি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও ভাইয়ের পদস্থাপনা কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



