২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার মাগুরা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা উল্লেখ করেন, সিসি ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার একাই স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না; সংশ্লিষ্ট সকলের নৈতিকতা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, তিনি প্রযুক্তিগত তদারকি এবং নৈতিক শুদ্ধতার সমন্বয়কে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ক্যামেরা ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ভোটার ও প্রার্থী উভয়েরই সৎ মনোভাব বজায় রাখা জরুরি, এ কথায় তিনি জোর দেন।
উপদেষ্টা দেশের নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোট‑২০২৬-এ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মঙ্গলের জন্য প্রত্যেক নাগরিকেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, কারণ “দেশটা আমাদের, তাই মঙ্গলের জন্য আমাদেরই কাজ করতে হবে”।
মাগুরা জেলায় দুইটি সংসদীয় আসন রয়েছে, যার মোট ভোটার সংখ্যা ৮,৪৭,৪১০। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে ৩০১টি ভোটকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা তথ্য অফিস ৪১১টি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে মাইকিং, লোকসংগীত ও উঠান বৈঠক অন্তর্ভুক্ত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাও আলোচনায় অংশ নেন।
প্রযুক্তি-নির্ভর নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষে মতপ্রকাশকারী কিছু বিশ্লেষকরা সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল ভোটিং মেশিনের ব্যবহারকে স্বচ্ছতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে উপদেষ্টা চাকমা জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি কেবল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে; নৈতিক শুদ্ধতা ছাড়া কোনো প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ হবে না।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল যদি সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে, তবে তা দেশের উন্নয়নের সঠিক পথে অগ্রসর করবে।”
সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি, সিসি ক্যামেরা তদারকি ব্যবস্থা এবং ভোটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নত করবে।
মাগুরা জেলায় ৩০১টি ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি মনিটরিং সম্পূর্ণভাবে চালু হয়েছে, যা ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অনিয়মের দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করবে। জেলা তথ্য অফিসের পরিচালিত ৪১১টি কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা চাকমা উল্লেখ করেন, “প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সমন্বয়ই আমাদের নির্বাচনী সংস্কারকে টেকসই করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের গণভোট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন ইত্যাদি আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে, তবে নৈতিক শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে।
এই আলোচনার পর, মন্ত্রণালয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করার কথা জানায়, যেখানে প্রযুক্তিগত তদারকি, ভোটার শিক্ষা এবং নৈতিক মানদণ্ডের উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।



