টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেবের মতে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার বেসলাইন স্পেকট্রামের মূল্যে হ্রাস করা হয়েছে। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজের দাম ২৬৭ কোটি টাকার বদলে ২৩০‑২৩৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রায় দশ শতাংশের হ্রাস। এই সিদ্ধান্তটি সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত আলোচনার ফল, যেখানে তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের সিইওদের চিঠি ও গ্রুপের যৌথ আবেদন মূল ভূমিকা পালন করেছে।
বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলাম সংক্রান্ত রিটের (রিট অর্ডার) পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের রুল জারি হওয়ার পর নিলামের তারিখ ২১ জানুয়ারিতে স্থগিত করা হয়। রিটের ভিত্তিতে আদালত নিলাম বন্ধের কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি, তবে আদালত যে ব্যাখ্যা চেয়েছে তা সরকারী পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হবে।
নিলামের প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার লেনদেনের জন্য একমাত্র দরদাতা গ্রামীণফোনের অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে, অন্য অপারেটররা বিনিয়োগের ইচ্ছা না প্রকাশের কারণে প্রক্রিয়া থেকে সরে গেছেন। ফয়েজ এই পরিস্থিতি নিয়ে উল্লেখ করেছেন, “নিলাম বন্ধ বা একক দরদাতার সুবিধা নেই; যারা বিনিয়োগ করতে চায় না, তাদের জোর করে অংশগ্রহণে বাধ্য করা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপ্রয়োজনীয়ভাবে আটকে রাখা যায় না।”
স্পেকট্রাম নিলামের মূল নীতি হল একাধিক তরঙ্গ একসঙ্গে বিক্রি করলে দাম কমে যায়। তাই প্রথমে ৭০০ মেগাহার্টজের নিলাম করা হবে, এরপর অবশিষ্ট ছোট ব্যান্ডের জন্য আলাদা নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই ধারাবাহিকতা সব অংশগ্রহণকারীর দাবিকে রক্ষা করবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে। ফয়েজের মতে, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড না থাকলে দেশের ফোর-জি (4G) ও ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের কভারেজে কৌশলগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
দাম কমানোর প্রক্রিয়ায় প্রথমে অপারেটরদের সিইওদের চিঠি পাওয়া যায়, যেখানে তারা স্পেকট্রামের মূল্যের হ্রাসের অনুরোধ করে। এরপর সংশ্লিষ্ট গ্রুপের পক্ষ থেকেও একই বিষয়ের উপর চিঠি আসে। এই চিঠিগুলো বিটিআরসি-র কমিশন সভায় আলোচনার বিষয় হয় এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। ফয়েজ উল্লেখ করেন, “এটি ছিল খুবই কঠিন কাজ; অর্থ মন্ত্রণালয়কে বোঝিয়ে আমরা দশ শতাংশের হ্রাস অর্জন করেছি।”
এই নিলাম ও মূল্য হ্রাসের মাধ্যমে সরকার টেলিকম সেক্টরে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে, শেষ ব্যবহারকারীর জন্য সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে চায়। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের কম দামের ফলে নতুন সেবা প্রদানকারী ও বিদ্যমান অপারেটরদের জন্য অতিরিক্ত স্পেকট্রাম অর্জন সহজ হবে, যা শেষ পর্যন্ত ডেটা গতি ও নেটওয়ার্কের গুণগত মান উন্নত করবে।
সারসংক্ষেপে, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের দাম ১০ শতাংশ কমে, নিলাম ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত এবং একাধিক ধাপের মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের 4G ও 5G কভারেজের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি টেলিকম শিল্পে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।



