ঢাকা মহানগরীর ১৩টি পার্লামেন্টারি নির্বাচনী এলাকায় আজ পর্যন্ত মোট ১৯ জন প্রার্থীর নামানিশ্চয়তা ঘটেছে, নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া ৩১ মার্চ নির্ধারিত জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
নির্বাচন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা তহজিব হাসান রিদম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে নামানিশ্চয়তা প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তন আনবে।
প্রার্থীদের নামানিশ্চয়তা বিভিন্ন দল থেকে এসেছে। জামাত‑ই‑ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) প্রত্যেক থেকে দুইজন করে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP), গনসমাজতি আন্দোলন, নেজাম‑ই‑ইসলাম পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑JSD প্রত্যেক থেকে একজন করে প্রার্থী নামানিশ্চয়তা করেছে।
এছাড়া AB পার্টি থেকে দুইজন, খলাফত আন্দোলন থেকে দুইজন, খলাফত মজলিস থেকে পাঁচজন এবং বাংলাদেশ খলাফত মজলিস থেকে একজন প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে।
ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকায় চারজন প্রার্থী নামানিশ্চয়তা করেছে: NCP-র SM শাহারিয়া, খলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, নেজাম‑ই‑ইসলাম পার্টির মোখলেসুর রহমান কাসেমি এবং AB পার্টির লুৎফর রহমান।
ঢাকা-৬-এ AB পার্টির গাজি নাসির এবং ঢাকা-৭-এ NCP-র তারেক আহমেদ আদেল প্রত্যাহার করেছেন। উভয় প্রার্থীই তাদের সংশ্লিষ্ট পার্টির তালিকা থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন।
ঢাকা-৯-এ জামাত‑ই‑ইসলামির কবির আহমেদ এবং খলাফত মজলিসের ফয়েজ বখশ সরকার নামানিশ্চয়তা করেছেন। উভয়ই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে গেছেন।
ঢাকা-১০-এ খলাফত মজলিসের আহমদ আলী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑JSD-র সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রত্যাহার করেছেন।
ঢাকা-১২-এ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান ইরান নামানিশ্চয়তা করেছেন, যা ওই পার্টির জন্য একমাত্র প্রত্যাহার।
ঢাকা-১৬-এ খলাফত আন্দোলনের আহসান উল্লাহ এবং খলাফত মজলিসের রিফাত হোসেন মালিক প্রত্যাহার করেছেন; একই সঙ্গে ঢাকা-১৭-এ খলাফত মজলিসের এমদাদুল হক নামানিশ্চয়তা করেছেন।
ঢাকা-১৮-এ সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঁচজন প্রার্থী নামানিশ্চয়তা করেছে: গনসমাজতি আন্দোলনের বিলকিস নাসিমা রহমান, জামাত‑ই‑ইসলামির মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোফিজুল ইসলাম, খলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমেদ খানদকার এবং বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নিয়াতমতুল্লাহ (আমিন)।
এই নামানিশ্চয়তা নির্বাচনী তালিকায় সংশোধন আনবে, এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলো নতুন প্রার্থী দাখিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত প্রত্যাহারকৃত প্রার্থীদের নাম তালিকা থেকে মুছে নতুন তালিকা প্রস্তুত করছে।
প্রতিটি পার্টি তাদের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রার্থী সংখ্যা কমে গেছে সেখানে নতুন মুখ উপস্থাপন করা হতে পারে।
নামানিশ্চয়তা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোটার তালিকায় আপডেট করা হবে, এবং ভোটারদেরকে সংশোধিত তালিকা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হবে।
এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো দল স্পষ্টভাবে নতুন প্রার্থী ঘোষণার কথা প্রকাশ করেনি।



