বাংলাদেশ খলাফত মজলিস ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৯টি পার্লামেন্টারি আসনে প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা ১০টি দলের জোট, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়ত‑ই‑ইসলামি, তাদের সীট‑শেয়ারিং চুক্তির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে যে, মজলিসের প্রার্থীরা রিকশা চিহ্ন ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেবে। জোটের সমঝোতার ফলে মোট ২৯টি প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩টি আসনে জোটের অন্যান্য দল প্রার্থী দায়ের করবে না।
বাকি ছয়টি আসনে মজলিসের প্রার্থীরা জোটের অংশীদার দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না, বরং একই রিকশা চিহ্নে একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ব্যবস্থা জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় ও সমঝোতা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
ছয়টি উন্মুক্ত আসন হল সুনামগঞ্জ‑৩ ও কিশোরগঞ্জ‑১, যেখানে সরাসরি খলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। মৌলভীবাজার‑৪ ও নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) জোটের অংশীদার হিসেবে একই চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফেনি‑২ আসনে এবি পার্টি এবং ফরিদপুর‑৪ আসনে জামায়ত‑ই‑ইসলামি মজলিসের সঙ্গে যুক্ত হবে।
দিল্লি‑১৩ আসনে মজলিসের আমীর মমুনুল হক প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন। তার প্রার্থীতা জোটের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, কারণ এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু।
এই জোটের ১০টি দল, যার মধ্যে জামায়ত‑ই‑ইসলামি, জাতীয় সিটিজেন পার্টি, এবি পার্টি এবং অন্যান্য ছোট দল অন্তর্ভুক্ত, নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিটি পার্টির স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সীট‑শেয়ারিং চুক্তি পার্টিগুলোর মধ্যে ভোটার ভিত্তি ভাগাভাগি করে জোটের মোট জয় সম্ভাবনা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
২৩টি আসনে কোনো জোটের প্রতিপক্ষ না থাকায় মজলিসের প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। এই ধরণের অপ্রতিদ্বন্দ্বিত আসন সাধারণত জোটের জন্য নিরাপদ জয় নিশ্চিত করে এবং সামগ্রিক ভোটের ভারসাম্য রক্ষা করে।
অন্যদিকে, উন্মুক্ত ছয়টি আসনে মজলিসকে জোটের অন্যান্য দলের সমর্থন ও সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। এই আসনগুলোতে ভোটারদের কাছে একসাথে রিকশা চিহ্নের প্রচার ও যৌথ র্যালি আয়োজনের মাধ্যমে জোটের ঐক্য প্রদর্শন করা হবে।
প্রতিপক্ষ দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, এই জোটের সীট‑শেয়ারিংকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করতে পারে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তাই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কেমন হবে তা দেখা বাকি।
নির্বাচনের শেষ তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীর নাম নিবন্ধন, ভোটার তালিকা আপডেট এবং প্রচারাভিযান শুরু হবে। জোটের প্রার্থীরা রিকশা চিহ্নের সঙ্গে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য রোড শো, মিটিং ও সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার বাড়াবে।
এই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ায় বাংলাদেশ রাজনীতির পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হয়ে আসছে। জোটের সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে এবং ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



