ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ার উরসুলা ভন ডের লেয়েন মঙ্গলবার ডাভোসের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্টিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ দাবি করার হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ভন ডের লেয়েন উল্লেখ করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডে একটি বৃহৎ বিনিয়োগ তরঙ্গ চালু করতে কাজ করছে, যদিও নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই উদ্যোগটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আর্টিক নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয় বাড়াবে বলে তিনি জানান। এই সমন্বয়কে উভয় পক্ষের যৌথ স্বার্থের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিনিয়োগের মাত্রা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার চলমান প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি অংশকে আর্টিকের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরোপীয় আইসব্রেকার ক্ষমতা এবং অন্যান্য সরঞ্জামে বরাদ্দ করতে পারে। এই ধরনের সরঞ্জাম গ্রিনল্যান্ডের পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হয়।
ভন ডের লেয়েন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন যে গ্রিনল্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা উচিত নয়। তিনি গত বছর স্বাক্ষরিত ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক বাণিজ্য চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপকে অনুচিত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি ব্যবসা ও রাজনীতিতে চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যখন দুই পক্ষ হাত মিলিয়ে চুক্তি করে, তখন তা বাস্তবিক অর্থ বহন করা দরকার। এই নীতি অনুসরণ না করলে পারস্পরিক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ককে তিনি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির মুখে দৃঢ়, ঐক্যবদ্ধ ও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যদি উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, তা উভয়ের জন্যই কৌশলগত পরিবেশকে অস্থির করে তুলবে এবং শত্রুদের জন্য সুবিধা তৈরি করবে। তাই শত্রুদের দূরে রাখার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য একত্রিত হবেন। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত পদক্ষেপের প্রতি যৌথ ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা।
সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্টিক নীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানের পথও খোঁজা হবে।
এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্টিক কৌশল ও গ্রিনল্যান্ডের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডে বৃহৎ বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্টিকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়, এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে তার অবস্থান দৃঢ় রাখতে প্রস্তুত।



