28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন নিয়মাবলী ও সীমাবদ্ধতা

জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন নিয়মাবলী ও সীমাবদ্ধতা

জাতীয় নির্বাচনের দিনগুলো কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা কোড অফ কন্ডাক্টের সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগ দায়ের করছে। নির্বাচন কমিশন নতুন ক্যাম্পেইন, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার এবং প্রচার সামগ্রী সংক্রান্ত নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকাগুলো ভোটারদের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি।

প্রার্থীদের ব্যক্তিগত উপহার, দান বা আর্থিক সুবিধা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রদান করা নিষিদ্ধ। একইভাবে, কোনো সংগঠন বা সমিতি থেকে ক্যাম্পেইন চলাকালীন স্বাগত বা ভোজ গ্রহণ করা যাবে না। এসব বিধি ভোটারদের উপর অপ্রয়োজনীয় প্রভাব রোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

ক্যাম্পেইন কার্যক্রমকে সরকারী, আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রকল্প থেকে আলাদা রাখতে হবে। প্রার্থীদের তাদের ক্যাম্পেইন সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বেই জমা দিতে হবে। র্যালি, সমাবেশ বা অন্যান্য জনসমাগমের জন্য তারিখ, সময় ও স্থান সম্পর্কে লিখিত অনুমতি নিতে হবে এবং তা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে কপি হিসেবে পাঠাতে হবে।

র্যালি আয়োজনের কমপক্ষে চব্বিশ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানাতে হবে যাতে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। সভা-সমাবেশ এমন স্থানে করা উচিত যেখানে জনসাধারণের চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে ক্যাম্পেইন সামগ্রীকে বায়োডিগ্রেডেবল ও পরিবেশ-বান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি করা আবশ্যক।

প্রচার সামগ্রীর ওপর শুধুমাত্র প্রার্থীর ছবি বা পার্টির প্রতীক ব্যবহার করা যাবে; অন্য কোনো চিত্র বা টেক্সট যুক্ত করা নিষিদ্ধ। বিলবোর্ডের আকার ১৬ ফুট লম্বা ও ৯ ফুট চওড়া অতিক্রম করা যাবে না এবং তা ট্রাফিকের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না। ভোটের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব প্রচার সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে।

সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারেও কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। সব অনলাইন অ্যাকাউন্ট, আইডি এবং ইমেইল ঠিকানা নির্বাচন অফিসারকে নিবন্ধন করতে হবে, পোস্ট করার আগে অনুমোদন নিতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করার সময় যাচাই করা তথ্যই ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন ক্যাম্পেইনকে ভোটার, নারী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি সম্মানজনকভাবে পরিচালনা করতে হবে।

নামিনেশন সময় প্রার্থীদের একটি শপথপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে তারা কোড অফ কন্ডাক্টের সব নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেবে। কোনো লঙ্ঘনের সন্দেহে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এই শপথপত্রের মাধ্যমে প্রার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে।

ক্যাম্পেইন শুরু করার সর্বশেষ সময়সীমা নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নির্ধারিত হয়েছে। ভোটের দিন থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ক্যাম্পেইন কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, যাতে ভোটারদের উপর অতিরিক্ত প্রভাব না পড়ে। এই সময়সীমা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক।

একটি সমাবেশে সর্বোচ্চ তিনটি মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে। শব্দের মাত্রা দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৬০ ডেসিবেল সীমার মধ্যে রাখতে হবে। এই শর্তগুলো নাগরিকদের শান্তি ও স্বাস্থ্যের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

শুধুমাত্র অনুমোদিত নির্বাচন কর্মী ও প্রার্থীরাই ক্যাম্পেইন সরঞ্জাম পরিচালনা করতে পারবে। অননুমোদিত ব্যক্তি বা দল যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তা আইনগত পদক্ষেপের আওতায় পড়বে। এই বিধানগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে।

নতুন নির্দেশিকাগুলো প্রার্থীদের জন্য স্পষ্ট সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি ভোটারদের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন, যদিও কিছু দল এখনও কিছু শর্তে আপত্তি তুলেছে।

প্রার্থীদের উচিত এই নিয়মগুলো মেনে চলা এবং কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত, এই নিয়মাবলী দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments