চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একদিক থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নয়; জুলাই মাসে ঘটিত গণআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের সঙ্গে সরকারের অবস্থান নির্দিষ্টভাবে যুক্ত।
উপদেষ্টা বলেন, সরকার যে গণআকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে তা তার কাজের অংশ, ফলে তিনি এটিকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব, যা সমাজে পরিবর্তন আনার এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভোটের ফলাফল বৈষম্য হ্রাস, সমতা বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ডা. বিধান রায় পোদ্দার ব্যাখ্যা করেন, গণভোটে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো যদি জনগণ সমর্থন করে, তবে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল যাই হোক না কেন, ক্ষমতায় আসলে তাদের এই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে। এই ভিত্তিতে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন সমাজে রূপান্তরিত করা সম্ভব। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এই আহ্বানকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূলধারার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এদিকে, তিনি আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বেও জোর দেন; যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি সঠিক না থাকে, তবে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
বিধান রায় পোদ্দার সরকারী কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করেন, তাদের উচিত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ না করা। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় পক্ষপাতের ফলে নৈতিক শক্তি দুর্বল হবে এবং জনমতের দৃষ্টিতে তাদের অবস্থান ক্ষীণ হবে। তাই সকল সরকারি কর্মীকে ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিরা উপদেষ্টার বক্তব্য শোনার পর প্রশ্নোত্তর সেশনে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। বেশিরভাগই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সমতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কিছু প্রতিনিধি আইন-শৃঙ্খলা ও ভোটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা চেয়েছেন।
উপদেষ্টা ডা. বিধান রায় পোদ্দার শেষ করে বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ইচ্ছা বাড়াতে সরকারকে সক্রিয় প্রচারণা চালাতে হবে এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে তদারকি বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হিসেবে গণ্য হবে।
এই মতবিনিময় সভা সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারাভিযানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভোটের দিন নাগাদ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে, সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।



