ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রার্থী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালীর টি-এন্ড-টি মাঠে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের সামনে ফ্ল্যাট নির্মাণ ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বস্তিতে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি বস্তির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল।
তারেক রহমানের মতে, কড়াইল বস্তিতে বর্তমানে কাঁচা ঘরে বসবাসরত মানুষদের জন্য ভবিষ্যতে উচ্চমানের ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে, যেখানে প্রতিটি ইউনিটের মালিকানা বাসিন্দাদের নামের রেজিস্ট্রিতে যুক্ত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পের জন্য দখলকৃত জমির সঠিক পরিমাপ ও পরিকল্পনা করা হবে, যাতে প্রত্যেক পরিবারকে ন্যূনতম আকারের ফ্ল্যাট প্রদান করা সম্ভব হয়। এছাড়া, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজ রাখার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন।
কড়াইল বস্তি, যা ১৯০০-এর দশকের শেষ দিকে তিনটি সরকারি সংস্থার ৯৩ একর জমি দখল করে গড়ে ওঠে, বর্তমানে ঢাকার বৃহত্তম বস্তিগুলোর একটি হিসেবে প্রায় ৪০ হাজার পরিবারকে ঘরে ঘরে সমাবেশ করে। অধিকাংশ বাসিন্দা নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা অনিয়মিত বিদ্যুৎ, পানির অভাব এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার সমস্যার মুখোমুখি। বস্তির সংকীর্ণ গলিগুলোতে বর্জ্য নিষ্পত্তি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত নয়।
আবাসন সমস্যার পাশাপাশি, তারেক রহমান শিক্ষার উন্নয়নেও অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নতুন স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাব থাকবে। পাশাপাশি, শিক্ষক নিয়োগ ও বৃত্তি ব্যবস্থা চালু করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত মাঠ ও ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে শারীরিক বিকাশ করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবার দিকেও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কড়াইল বস্তির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যাতে বাসিন্দারা দূরবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। এছাড়া, নিয়মিত মোবাইল স্বাস্থ্য ইউনিট চালু করে রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহজতর হবে।
এই ঘোষণার সময়, তারেক রহমান স্বীকার করেন যে নির্বাচনী সময়ে এই প্রতিশ্রতি ভোটের প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তিনি এটিকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের নিয়মাবলী বা সম্ভাব্য বিরোধিতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন, বরং আল্লাহর রহমতে জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে চান। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ইঙ্গিত না থাকলেও তিনি সবকিছু স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।
বিএনপির এই উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, কড়াইল বস্তির মতো বৃহৎ বস্তিতে বাসস্থান ও মৌলিক সেবার উন্নতি করা পার্টির জন্য ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সমর্থন নিশ্চিত করা হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিরোধী দলগুলোও এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে পার্টির কার্যকরী সক্ষমতা পরীক্ষা করবে।
বিএনপি আগামী ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং কড়াইল বস্তি তার নির্বাচনী প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি পার্টির সামাজিক নীতি ও নির্বাচনী কৌশলের সমন্বয় হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে। নির্বাচনের ফলাফল কড়াইল বস্তির উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।



