বিএনপি চেয়ারম্যান তরেক রহমান মঙ্গলবার কড়াইলবাশীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটি মৃতবেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয় এবং উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
দোয়া-মনাজাতের আগে তরেক রহমান উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া যেসব মা-বোনকে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করেছেন, তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে তিনি নতুন উদ্যোগ নিতে চান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গরিব পরিবারগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমান সুযোগ দিতে হবে।
শিক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা স্কুল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে স্থানীয় ক্লিনিক ও মোবাইল হেলথ ইউনিট চালু করে মৌলিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
আবাসিক সমস্যার সমাধানে তিনি উচ্চ-উচ্চ ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। কড়াইলবাশীর বাসিন্দাদের নাম রেজিস্টার করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট তৈরি করে তাদের নামে প্রদান করা হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বাসস্থান পায়। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বস্তিবাসীদের বর্তমান অস্থায়ী বাসস্থানের পরিবর্তে স্থায়ী ও সুরক্ষিত বাড়ি তৈরি হবে।
তরেক রহমানের এই প্রতিশ্রুতি বস্তিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উপস্থিত লোকজনের বেশিরভাগই তার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে উন্নয়নের আশায় ছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতারা সাধারণত বস্তিবাসী সমস্যার সমাধানে সরকারী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন, তবে এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশ্লেষকও উল্লেখ করেছেন, বস্তিবাসী উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে এবং যথাযথ তহবিল ও পরিকল্পনা ছাড়া তা সফল হওয়া কঠিন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘোষণাটি বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বস্তিবাসী ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন বাড়াতে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, বস্তিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা হিসেবে এই পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
তরেক রহমানের দল এখন থেকে এই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের পথ খুঁজবে। যদিও সময়সীমা ও নির্দিষ্ট ধাপগুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আল্লাহর অনুগ্রহে ধীরে ধীরে এই সমস্যাগুলো সমাধান হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের অগ্রগতি কীভাবে হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।



