23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানউত্তর আলো যুক্তরাজ্যের আকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙে ঝলমল

উত্তর আলো যুক্তরাজ্যের আকাশে সবুজ ও গোলাপি রঙে ঝলমল

গত সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশে অস্বাভাবিক সবুজ ও গোলাপি রঙের আলোর ঝলক দেখা গিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দৃশ্যটি উত্তর আলোর (অরোরা বোরিয়ালিস) ফল, যা সূর্যের তীব্র বিকিরণ থেকে নির্গত কণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার ফলে উদ্ভূত হয়।

অরোরা সাধারণত আর্টিক বৃত্তের কাছাকাছি অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, তবে সূর্যের উচ্চ সক্রিয়তার সময়ে কণাগুলোর প্রবাহ দূরবর্তী অক্ষাংশে পৌঁছাতে পারে। এইবারের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে আলোর দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থায় পাঠানো ছবিগুলোতে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর অংশে রঙিন আলো দেখা গিয়েছে। কিছু ফটোতে আকাশে ধীরে ধীরে বিস্তৃত রঙের তরঙ্গের ছবি রয়েছে, যা রাতের অন্ধকারকে রঙিন করে তুলেছে।

ইতালির উত্তর অংশের ভেনেটো ও এমিলিয়া-রোমাগনা, এবং ফ্রান্সের কোত দ’আজুরেও অরোরা দেখা গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। এই দূরবর্তী স্থানে আলোর দৃশ্য দেখা সাধারণ নয়, তবে শক্তিশালী সৌর ঝড়ের সময়ে তা সম্ভব হয়ে ওঠে।

পরের রাতের (মঙ্গলবার) পূর্বাভাসে অরোরার তীব্রতা হ্রাস পাবে এবং মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ অংশে থাকবে। তবে স্কটল্যান্ডের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল, এবং সম্ভবত উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে পরিষ্কার আকাশের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

এই চমকপ্রদ অরোরা একটি তীব্র জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঝড়ের ফল, যা সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসা করোনাল মাস ইজেকশন (CME) দ্বারা সৃষ্ট। এই ধরণের কণার স্রোত পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।

কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন অণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে বিভিন্ন রঙের আলো উৎপন্ন হয়। অক্সিজেন সবুজ রঙের আলো দেয়, আর নাইট্রোজেন লাল, নীল ও গোলাপি রঙের ছাপ তৈরি করে, যা রাতের আকাশে দৃশ্যমান হয়।

বর্তমানে সূর্য তার ২১ বছরের চক্রের সর্বোচ্চ সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ‘সৌর সর্বোচ্চ’ নামে পরিচিত। এই সময়ে সূর্যের পৃষ্ঠে বেশি সূর্যকুঁড়ি (সানস্পট) দেখা যায়, যা অধিক সংখ্যক CME ও সৌর ফ্লেয়ার উৎপন্ন করে, ফলে অরোরার সংখ্যা বাড়ে।

যদিও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঝড় ও সৌর ফ্লেয়ার সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, কারণ বায়ুমণ্ডল আমাদেরকে রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করে, তবে এগুলো বৈদ্যুতিক গ্রিড, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং রেডিও সিগন্যালের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো সতর্কতা অবলম্বন করে।

অরোরা দেখার জন্য পরিষ্কার আকাশের সন্ধ্যা সর্বোত্তম সময়। উত্তর দিকে তাকিয়ে প্রথমে হালকা আভা লক্ষ্য করা যায়; রঙ না দেখা গেলে ক্যামেরা লেন্স বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে শুট করলে রঙিন দৃশ্য স্পষ্ট হতে পারে।

এই ধরনের প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাদের মহাকাশীয় পরিবেশের সঙ্গে সংযোগের স্মরণ করিয়ে দেয়। আপনি কি আগামী সপ্তাহে আবার অরোরা দেখার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments