চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল‑সলিমপুর এলাকায় র্যাবের উপ‑সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া ২০ জানুয়ারি বিকেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই সময়ে র্যাবের চারজন সদস্য ও একজন তথ্যদাতা আহত হন। ঘটনাটি ঘটার পর র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান র্যাব ও পুলিশকে একত্রে কাজ করতে নির্দেশ দেন এবং হত্যাকারীদের আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সকালবেলা র্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম জঙ্গল‑সলিমপুরে গিয়ে নিরাপত্তা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। টিমে চারজন র্যাব সদস্য এবং একটি স্থানীয় তথ্যদাতা ছিলেন। দলটি যখন এলাকায় পৌঁছায়, তখনই একদল অপরাধী হঠাৎ আক্রমণ চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে র্যাব সদস্যরা তৎক্ষণাৎ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, শত্রুদের সংখ্যা ও অস্ত্রের আধিপত্যের কারণে তারা কার্যকরভাবে গুলি করতে পারেনি।
আক্রমণের ফলে র্যাবের চারজন সদস্য ও তথ্যদাতা একসাথে বন্দি হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে র্যাবের উপ‑সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সবচেয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। অন্যান্য র্যাব সদস্যদের আঘাত হালকা থেকে মাঝারি স্তরে রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ তৎক্ষণাৎ উদ্ধার অভিযান চালায়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় তারা বন্দি করা র্যাব সদস্য ও তথ্যদাতাকে মুক্ত করে। আহত পাঁচজনকে নিকটস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর র্যাবের উপ‑সহকারী পরিচালক মোতালেবের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর র্যাব মহাপরিচালকের কাছে পৌঁছালে তিনি তৎক্ষণাৎ মিডিয়ার সামনে এসে ঘটনার বিশদ ও র্যাবের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দেন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, র্যাবের সদস্যদের স্ব-প্রতিরক্ষা অধিকার ছিল, তবে পরিস্থিতি তৎক্ষণাৎ মূল্যায়ন করে তারা গুলি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, র্যাবের মূল লক্ষ্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা।
হত্যাকারীদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশ একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাবে। র্যাব মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন, যারা মোতালেবের হত্যায় দায়ী, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে স্থানীয় সূত্র ও গৃহীত নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ডের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। র্যাবের তথ্য বিশ্লেষক দল ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদি সংরক্ষণ করে আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আক্রমণকারী দলটি পূর্বে র্যাবের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার জন্য পরিচিত। র্যাবের সদস্যদের ওপর আক্রমণ পরিকল্পনা করা হয়েছিল গোপনে, এবং তারা হঠাৎই দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়।
আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে র্যাব ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার রেজিস্ট্রেশন করবে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য ওয়ারেন্ট জারি করবে। মামলার শুনানি নির্ধারিত হলে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ ও সাক্ষীর বিবৃতি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মহাপরিচালক শেষ কথা বলেন, র্যাব দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সকল নিরাপত্তা সংস্থা একসাথে কাজ করবে। তিনি র্যাবের শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।



