উগান্ডার বিরোধী নেতা ববি ওয়াইন গোপন অবস্থান থেকে জানিয়েছেন, তিনি বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন না। বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা না থাকায় তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ৪৩ বছর বয়সী প্রাক্তন পপ স্টার, যিনি রবার্ট কিয়াগুলানি নামেও পরিচিত, নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির নীতি বিরোধে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জোর দিয়েছেন।
মুসেভেনি, ৮১ বছর বয়সী, নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ৭২% ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ববি ওয়াইন, যিনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, ২৫% ভোট পেয়েছেন। মুসেভেনি ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করা বিরোধীদের “সন্ত্রাসী” বলে অভিযুক্ত করেছেন।
ববি ওয়াইন ফলাফলকে “নকল” বলে দাবি করে, ভোটে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন, তবে কোনো প্রমাণ বা বিশদ তথ্য দেননি। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফল ও ভোটার তালিকায় উল্লেখিত ফলাফলের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে, যা তিনি বৈধ নয় বলে বিবেচনা করেন।
বিবাদী দলের নেতার মতে, নিরাপত্তা বাহিনী তার পরিবারের বাড়িতে খাবার সরবরাহে বাধা দিয়েছে, ফলে তার স্ত্রী ও আত্মীয়রা গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণের পর তিনি ক্যাম্পালার একটি উপশহরে রাতের বেলায় বাড়ি ত্যাগ করে গোপন স্থানে পালিয়ে গেছেন।
উগান্ডা মানবাধিকার কমিশন (UHRC) এই অভিযোগের কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা উল্লেখ করেছে যে ভোটের দিন পর্যবেক্ষণকৃত প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত সমস্যাগুলি সামগ্রিক নির্বাচনের ন্যায্যতাকে ক্ষুন্ন করেনি।
আফ্রিকান ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলও ভোটে গুটিয়ে নেওয়ার কোনো প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও, ফলাফল ঘোষণার পর ইন্টারনেট বন্ধের ব্যাপক সমালোচনা করেছে। ভোটের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ইন্টারনেট পুনরায় চালু হয়।
ববি ওয়াইন ২০২১ সালের নির্বাচনে মুসেভেনির পরাজয়ের পর থেকে বিরোধী আন্দোলনের মুখে ছিলেন। বর্তমান নির্বাচনের পর তার কণ্ঠস্বর পুনরায় শোনা যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন, আইনি পদ্ধতির পরিবর্তে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নীরব প্রতিবাদ করতে।
মুসেভেনির সরকার ফলাফলকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করেছে এবং বিরোধী দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে ইন্টারনেট বন্ধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের উল্লেখ রয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে উগান্ডার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী ঘটবে তা এখনো অনিশ্চিত। ববি ওয়াইন যদি রাস্তায় বৃহৎ প্রতিবাদ সংগঠিত করেন, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, মুসেভেনির সরকার যদি বিরোধী দলের দাবি উপেক্ষা করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
উগান্ডার ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্স্থাপনের জন্য উভয় পক্ষেরই সংলাপ ও আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



