নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০ জানুয়ারি জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমির শফিকুর রহমানসহ ছয়জন সহকর্মীর নিরাপত্তা চাহিদা গ্রহণের পর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশমূলক চিঠি পাঠায়। একই সময়ে গাজীপুর‑১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও পৃথক চিঠি জারি করা হয়।
ইসির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রার্থীদের ভোট পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, যাতে ভোটার ও প্রার্থীদের কোনো হুমকি না থাকে।
জামায়াতের সাতজন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে আমির শফিকুর রহমানের পাশাপাশি নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এবং রফিকুল ইসলাম খান। এই সকলের নাম ইসির প্রকাশ্য তালিকায় উল্লেখিত হয়েছে।
ইসির কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আবেদন গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে কমিশন প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া স্পষ্ট করেছে।
প্রার্থীদের নিরাপত্তা চাহিদা জমা দেওয়ার পর, ইসির সচিবালয় দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। একই দিনে, গাজীপুর‑১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও চিঠি জারি করা হয়, যা সোমবার কার্যকর হয়।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন মঙ্গলবার একই বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, “প্রার্থীদের আবেদন অনুসারে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।” এই মন্তব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে।
প্রধান নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, যা ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের শেষ দিন। ইসির এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটারদের সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে, তারা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করবে।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন। তবে ইসির কাজের পরিধি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইসির এই পদক্ষেপের ফলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি, নির্বাচনী পরিবেশে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
নির্বাচনের আগে ঘটতে পারে এমন হিংসা, বিস্ফোরণ বা অন্য কোনো অশান্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সময়মতো কার্যকর করা জরুরি। ইসির এই নির্দেশনা সেই দিক থেকে একটি সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ইসির নিরাপত্তা নির্দেশনা জামায়াতের সাতজন প্রার্থী ও গাজীপুর‑১ের বিএনপি প্রার্থীর জন্য প্রযোজ্য, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।



