28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে পলায়নকৃত ৮১ আইএসআইএস সদস্য গ্রেফতার

আল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে পলায়নকৃত ৮১ আইএসআইএস সদস্য গ্রেফতার

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বের হাসাকাহ অঞ্চলের আল-শাদ্দাদি শহরে অবস্থিত আল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে পলায়ন করা ১২০ আইএসআইএস বন্দীর মধ্যে ৮১ জনকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের তথ্য সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অভিযান ইউনিটগুলো শহরে প্রবেশ করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছে। এই অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট ৮১ সদস্যকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।

অভিযানটি আল-শাদ্দাদি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় শুরু হয় এবং নিরাপত্তা গার্ড, গাড়ি ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে পলায়নকারীদের সন্ধান নেওয়া হয়। অনুসন্ধান দলগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা প্রদান করা হয়। গ্রেফতারের পর নিরাপত্তা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বাকি পলায়নকারীদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবারের একটি পূর্ববর্তী বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিল যে, মোট ২০০ জন পলায়নের মধ্যে ১৩০ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আজ প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের সংখ্যা ৮১-এ হ্রাস পেয়েছে, যা পূর্বের সংখ্যার সঙ্গে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। এই পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, পুনরায় যাচাই ও আপডেটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

পলায়নের মূল দায়িত্বের দিকে নজর দিলে, সিরিয়ার সরকার এসডিএফ (সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস) সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। সরকার দাবি করে যে, এসডিএফের অননুমোদিত কার্যকলাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পলায়নের কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, সিরিয়ার নিরাপত্তা বিভাগ এসডিএফের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে পলায়নকারীদের ধরা ও ভবিষ্যৎ ঘটনার প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একটি চুক্তি ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসডিএফের সম্পূর্ণ একীভূতকরণ নিশ্চিত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, এসডিএফ ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব দিকে তাদের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার করবে এবং রাক্কা ও দেইর আজ-জোর প্রদেশের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার সরকারকে হস্তান্তর করবে। এছাড়া, সীমান্ত ক্রসিং, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র এবং বেসামরিক অবকাঠামো সরকারী নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আইনি দিক থেকে, গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্তের আওতায় আনা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রেফতারের পর দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হবে। আদালতে উপস্থিতি ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হবে।

বাকি পলায়নকারীদের সন্ধান এখনও চলমান। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে বলা হয়েছে যে, অনুসন্ধান দলগুলো শহরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও শিবিরে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে পলায়নকারীদের সম্পূর্ণ ধরা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া নীতি অনুসরণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments