মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বাংলাদেশি ব্যাটার শারমিন আক্তার আক্রমণাত্মক খেলা দেখিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছেন। ICC মঙ্গলবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিং আপডেট অনুযায়ী শারমিনের র্যাঙ্ক ১৩ ধাপ উপরে উঠে ৫৭তম স্থানে বসেছে। এই উন্নতি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র, অন্য কোনো খেলোয়াড় র্যাঙ্কে অগ্রসর হতে পারেনি।
ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২১ রানের পার্থক্যে বাংলাদেশ জয়ী হয়। শারমিনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই দলকে বড় সুবিধা দেয়; তিনি ৩৯ বলের ইনিংসে ৬৩ রান সংগ্রহ করেন। তার আউটপুটে এক ছক্কা এবং আটটি চার অন্তর্ভুক্ত, যা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শারমিনের এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতে তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ) পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার দ্রুতগতির আউটসেট এবং ধারাবাহিক রানের প্রবাহকে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়, যদিও কোনো সরাসরি উক্তি উল্লেখ করা হয়নি।
ICC-এর র্যাঙ্কিং তালিকায় শারমিন এখন ৫৭তম স্থানে অবস্থান করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উচ্চ র্যাঙ্ক। তার উপরে মাত্র একজন বাংলাদেশি ব্যাটার আছেন, যিনি অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং তিনি ১৮তম স্থানে র্যাঙ্কেড। নিগার সুলতানা এবং শারমিনের র্যাঙ্কের পার্থক্য এক ধাপ, যা দলের ব্যাটিং গভীরতায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
বিশ্বব্যাপী ব্যাটার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি অব্যাহত রয়েছেন। মুনির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে শীর্ষে রাখে, এবং শারমিনের র্যাঙ্কিং উন্নতি তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।
বোলার র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার পরেই বাংলাদেশের রাবেয়া খান সর্বোচ্চ র্যাঙ্কে আছেন, যা দেশের স্পিনারদের জন্য গর্বের বিষয়। রাবেয়া খান দুই ধাপ উপরে অবস্থান করে পঞ্চদশ স্থানে থাকা লেগ-স্পিনারকে ছাড়িয়ে গেছেন।
লেগ-স্পিনারদের তালিকায় পঞ্চদশ স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের নাম মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে রাবেয়া খানের অবস্থান স্পিনার বিভাগে বাংলাদেশের শক্তি প্রকাশ করে।
অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস শীর্ষে রয়েছেন। তার বহুমুখী দক্ষতা তাকে এই বিভাগে সর্বোচ্চ র্যাঙ্ক দেয়, যা আন্তর্জাতিক অলরাউন্ডারদের মধ্যে তার অবস্থানকে দৃঢ় করে।
শারমিনের এই র্যাঙ্কিং উন্নতি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। র্যাঙ্কিংয়ে উর্ধ্বগতি দলকে আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে এবং পরবর্তী বাছাই ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা বাড়াবে।
আসন্ন বাছাই পর্যায়ে বাংলাদেশকে আরও কয়েকটি দলের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে শারমিনের আক্রমণাত্মক শৈলী এবং রাবেয়া খানের স্পিনিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলটি র্যাঙ্কিংয়ে অর্জিত অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ম্যাচে জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



