27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবেতন কমিশনের নতুন বেতন‑ভাতা কাঠামোর সুপারিশ আগামীকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে জমা

বেতন কমিশনের নতুন বেতন‑ভাতা কাঠামোর সুপারিশ আগামীকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে জমা

বেতন কমিশন আগামীকাল (বুধবার) বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা‑এ প্রধান উপদেষ্টার অফিসে নতুন বেতন‑ভাতা কাঠামোর সুপারিশ পেশ করবে। কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান এবং সব সদস্যরা একসঙ্গে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদও উপস্থিত থাকবেন এবং জমা প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে তার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানা গেছে।

বেতন কমিশনের মতে, নতুন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিকভাবে কার্যকর হবে এবং পুরো মাত্রায় ১ জুলাই ২০২৬‑২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে প্রয়োগ করা হবে। এই সময়সূচি পূর্বে পরিকল্পিত উপদেষ্টা‑প্রধান উপদেষ্টা মধ্যস্থতার পদ্ধতি থেকে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার দিকে পরিবর্তিত হয়েছে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে অর্থ উপদেষ্টা কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বেতন কমিশনের সুপারিশের মূল বিষয়গুলো তিনি প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরবেন।

বেতন কাঠামোর পরিবর্তন অনুযায়ী, বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকার উপরে নিয়ে যাওয়া হবে, ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বের পরিকল্পনা ছিল, কমিশনের প্রতিবেদন প্রথমে অর্থ উপদেষ্টার কাছে পৌঁছে, তারপর তিনি তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থাপন করবেন। তবে এখন কমিশনের সদস্যরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রতিবেদন জমা দেবে, যা প্রক্রিয়ার দ্রুততা বাড়াবে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় মূলত বেতন‑ভাতা বৃদ্ধি সমর্থনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এই বৃহৎ আর্থিক প্রভাবের কারণে সরকার পুরো কাঠামো একসাথে না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন স্তরের বেতন‑ভাতা বেশি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক জীবনের মান উন্নত হয়। এই দিকটি বিশেষভাবে নিম্নবেতনধারী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বেতন কমিশন ২৭ জুলাই ২০২২-এ গঠিত হয় এবং এতে ২১ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত। এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অর্থসচিব এবং পিকেএসএফ (পল্লী কর্ম‑সহায়ক ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কমিশনের সদস্যরা এখন পর্যন্ত তাদের বিশ্লেষণ শেষ করে, সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন‑ভাতা কাঠামো প্রণয়ন করেছে। এই কাঠামো সরকারকে আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা সংসদীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।

বেতন কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে অনুমান করা হচ্ছে যে, উচ্চ বেতনধারী কর্মচারীদের সমর্থন এবং নিম্নবেতনধারী কর্মচারীদের প্রত্যাশা উভয়ই এই নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর, প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এই ধাপটি নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেতন কমিশনের সুপারিশের বাস্তবায়ন সরকারকে আর্থিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে, তবে একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের মজুরি উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মপ্রেরণা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই নীতি কীভাবে কার্যকর হবে তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments