22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডে পুতিনকে আমন্ত্রণ, ম্যাক্রন ফরাসি মদে শুল্কের হুমকি

ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডে পুতিনকে আমন্ত্রণ, ম্যাক্রন ফরাসি মদে শুল্কের হুমকি

ফ্লোরিডার প্রেস কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলের পুনর্নির্মাণ ও প্রশাসন তত্ত্বাবধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত “শান্তি বোর্ড”ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। এই উদ্যোগ তার ২০‑ধাপের পরিকল্পনার অংশ, যা ইসরায়েল‑হামাস সংঘাতের সমাপ্তি লক্ষ্য করে।

বোর্ডের কাজ হবে গাজা অঞ্চলের সাময়িক শাসন ও ধ্বংসাবশেষ পুনর্গঠনের তদারকি, এবং এর সদস্য হিসেবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মতে, ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন, যদিও সদস্যদের তালিকা ও কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুতিন এই আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে রাশিয়া এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিসের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ উল্লেখ করেন যে মস্কো প্রস্তাবের সব দিক বিশদভাবে পর্যালোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার ইউক্রেনের ওপর চালু করা চার বছরের সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি গ্রহণের সাথে সমান্তরালভাবে আসে, যা পুতিনের সরকার এখনো স্বীকার করেনি।

একই দিনে ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের গাজা শান্তি বোর্ডে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। তিনি বলেন, “তিনি যোগ দেবেন, তবে যোগ দিতে বাধ্য নন।”

ম্যাক্রনের কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি সূত্রের মতে, ফরাসি সরকার শুল্কের মাধ্যমে বিদেশি নীতি প্রভাবিত করার হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য ও অকার্যকর বলে বিবেচনা করে। সূত্রটি আরও জানায় যে ম্যাক্রন ট্রাম্পকে একটি টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে গোষ্ঠী সাত (G7) শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ট্রাম্পের অফিসিয়াল টুইটার-সদৃশ প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ সেই টেক্সটের স্ক্রিনশট প্রকাশের পর, ম্যাক্রনের প্রস্তাবিত G7 মিটিংটি ডাভোস সম্মেলনের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সিরিয়া এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

শান্তি বোর্ডের গঠন সম্পর্কে এখনও স্পষ্টতা নেই; হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্ব নেতাদের মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, এবং অন্যান্য দেশ থেকে প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোন দেশ বা নেতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকট ও অবকাঠামোগত ধ্বংসাবশেষের দ্রুত পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন দাবি করে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব রাশিয়ার ইউক্রেনের ওপর চলমান সামরিক কার্যক্রমের সমাপ্তি চাওয়ার সঙ্গে যুক্ত।

ম্যাক্রনের ফরাসি মদের ওপর শুল্কের হুমকি এবং G7 মিটিংয়ের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। উভয় পক্ষই শুল্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে মতবিরোধে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গাজা শান্তি বোর্ডের সাফল্য নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার উপর। যদি রাশিয়া এই বোর্ডে অংশগ্রহণ করে, তবে এটি ইউক্রেনের শান্তি চুক্তির আলোচনায় নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের মত দেশগুলো যদি অংশ না নেয়, তবে বোর্ডের বৈধতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বর্তমানে, ট্রাম্পের প্রশাসন গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সমর্থন সংগ্রহে মনোযোগ দিচ্ছে, এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে বোর্ডের সদস্য তালিকা ও কার্যপ্রণালী প্রকাশিত হলে, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments