ধর্ম উপদেষ্টা আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণভোট সংক্রান্ত সচেতনতা সভায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে, যা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের প্রভাবকে দুর্বল করবে।
উক্ত সভায় তিনি ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একবার ক্ষমতার চেয়ারে বসে গেলে মানুষ চেয়ারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং তা ছেড়ে দিতে চায় না। এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে এই ধাঁচের সংস্কৃতি বদলানো সম্ভব হবে, তিনি যুক্তি দেন।
খালিদ হোসেনের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট দুটোই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার হাত থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ভোটারদের ঐ দিনকে ঐতিহাসিক হিসেবে স্মরণ রাখতে আহ্বান জানান।
সচেতনতা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্যের পর, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে সভা চালু হয়। তিনি উপস্থিত সকলকে ভোটের গুরুত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে উদ্যোগী হন এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করেন।
সভায় নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দও মঞ্চে উঠে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। যদিও তাদের বক্তব্যের বিশদ এখানে উল্লেখ করা হয়নি, তবে তারা প্রত্যেকেই ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রক্ষা করা উচিত এবং কোনো একপক্ষের অতিরিক্ত প্রভাব থেকে নির্বাচনকে রক্ষা করা জরুরি। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি গোষ্ঠী ভোটার শিক্ষা ও তথ্যপ্রাপ্তি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার প্রস্তাব দেন। ধর্মীয় নেতারা সমাজে শান্তি ও ঐক্যের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য ভোটের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এই সভা নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত হয়। উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী একমত যে, ভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তাই ভোটারদের সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
খালিদ হোসেনের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্যের পর, অংশগ্রহণকারীরা তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন। কিছু অংশগ্রহণকারী তার মতামতকে সমর্থন করে বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা থেকে মুক্তি পেতে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব। অন্যদিকে, কিছু অংশগ্রহণকারী সতর্ক করেন যে, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা বাস্তবায়নের জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতা সভা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত একত্রিত হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য একটি সমন্বিত আলোচনার মঞ্চ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতে, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল আসে, তবে ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ হোসেনের উল্লেখিত সংস্কারমূলক পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য সরকারী নীতি ও আইন প্রণয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলাফল হলে বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো বজায় থাকবে এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।
সর্বশেষে, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সভার সমাপ্তি ঘোষণা করে সকলকে ভোটের দিন সৎভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা সম্ভব, এবং এই দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের।



