বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফরুখল ইসলাম আলমগীর সোমবার, ২০ জানুয়ারি, শহীদ আসাদ দিবসের উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্রের রক্ষার অমলিন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ আসাদ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামী ছিলেন এবং তার রক্তাক্ত ত্যাগ সেই সময়ের সংগ্রামের আগুনকে আরও তীব্র করে তুলেছিল, যার ফলে শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সম্ভব হয়। মির্জা ফখরুলের মতে, আজকের দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে শহীদ আসাদের জীবন ও আদর্শ এখনও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, শহীদ আসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন—একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা—এখনো সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে আহ্বান জানান, সেই স্বপ্নকে পূর্ণ করতে সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তাদের উপর রয়েছে। এই বার্তায় তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে গণতন্ত্র ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে উৎসাহিত করেন।
মির্জা ফখরুল শহীদ আসাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ আসাদের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোকে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা এখনো দেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
বিএনপি এই বাণীর মাধ্যমে শহীদ আসাদের ত্যাগকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুনরায় উজ্জীবিত করতে চায়, যাতে গণতন্ত্রের মূল্যায়ন ও রক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মের উদ্যম জাগ্রত হয়। একই সঙ্গে, তিনি উল্লেখ করেন যে শহীদ আসাদের স্বপ্নের পূর্ণতা না হওয়া পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ধরনের স্মরণীয় বার্তাকে বিরোধী দলের জন্য ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে দেখছেন, তবে শহীদ আসাদের ত্যাগের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে অস্বীকার করা কঠিন। ruling party, Awami League, এ পর্যন্ত এই বাণী সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি, যা রাজনৈতিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সংলাপের ঘাটতি নির্দেশ করে।
শহীদ আসাদ দিবসের এই স্মরণীয় মুহূর্তে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শহীদ আসাদের ত্যাগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রক্ষা করা এবং তার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠন করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব।
এই বাণী থেকে স্পষ্ট যে, শহীদ আসাদের ত্যাগের স্মৃতি কেবল অতীতের স্মরণ নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি চালিকাশক্তি। মির্জা ফখরুলের আহ্বান দেশের বিভিন্ন স্তরের নাগরিককে গণতন্ত্রের ন্যায্যতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।
শহীদ আসাদ দিবসের এই উপলক্ষে, শহীদ আসাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, মির্জা ফখরুলের বার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে, শহীদ আসাদের স্বপ্নের পূর্ণতা এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



