ঢাকা—ডেটা আধুনিক ক্ষমতার মূল উপাদান হিসেবে গৃহীত হয়েছে; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিজ্ঞাপন, ক্রেডিট স্কোর এবং জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার ভিত্তি গঠন করে। একই সঙ্গে ডেটা অপব্যবহার, ফাঁস বা বাণিজ্যিক লেনদেনের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো এখন প্রশ্নের মুখোমুখি যে, ডেটা সংগ্রহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণে কারা অধিকার রাখবে এবং সাধারণ নাগরিকের তথ্যের ওপর কী সুরক্ষা থাকবে। এই আলোচনায় প্রযুক্তিগত দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের দ্বন্দ্বও অন্তর্ভুক্ত।
২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ প্রথম ব্যাপক গোপনীয়তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুটি বিধি জারি করে। একটি হল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আদেশ, অন্যটি হল জাতীয় ডেটা শাসন আদেশ; উভয়ই নভেম্বর মাসে সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হয়।
এই আদেশগুলো ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণে মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্যের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর সম্মতি নিশ্চিত করার বিধান অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে ডেটা শাসন আদেশে ডেটা গভার্নেন্সের কাঠামো, তদারকি সংস্থা ও দায়িত্বের বণ্টন নির্ধারিত হয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার এই দুই আদেশে সংশোধনী অনুমোদন করে। সংশোধনীগুলোতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বিস্তৃত ডেটা লোকালাইজেশন বাধ্যবাধকতা হ্রাস করা হয়েছে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের ধারাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ডেটা লোকালাইজেশন হ্রাসের ফলে বিদেশি ক্লাউড সেবা ও সফটওয়্যার প্রদানকারীরা এখন দেশের সীমানার বাইরে ডেটা সংরক্ষণে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন। এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে এবং স্থানীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযোগ সহজ করবে।
অপরদিকে, কারাদণ্ড বাদ দেওয়া মানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা বা সংশোধনীমূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি হবে, তবে কারাবাসের হুমকি থাকবে না। এই পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিবেশকে অধিক নমনীয় করে তুলতে পারে, তবে ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
নাগরিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিধিগুলো তথ্যের স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীর সম্মতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। তবে ডেটা স্থানান্তর ও শাসন সংক্রান্ত শর্তে পরিবর্তন হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব কী হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লোবাল ডেটা বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক গোপনীয়তা মানদণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। ইউরোপের সাধারণ ডেটা সুরক্ষা নিয়ম (GDPR) অধিকার ও দায়িত্বের ভিত্তিতে গঠিত, যা বিশ্বব্যাপী রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের নতুন আদেশগুলো GDPR-এর কিছু মূল নীতি, যেমন ডেটা মিনি-মাইজেশন ও ব্যবহারকারীর অধিকার, গ্রহণের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে, তবে স্থানীয় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে।
এই পর্যায়ে দেশটি দুটি সম্ভাব্য পথে দাঁড়িয়ে আছে: গ্লোবাল ডেটা ইকোনমিতে অধিকারভিত্তিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে, অথবা নিয়মের প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা থাকলে ডেটা প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে।
ডেটা গোপনীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে নতুন, তবে দ্রুত গৃহীত নীতি ও সংশোধনী এটিকে গ্লোবাল গেমে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে অবস্থান দিতে পারে। ভবিষ্যতে এই কাঠামো কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের প্রযুক্তি শিল্প, নাগরিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



