নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মঙ্গলবার সকালবেলা এক স-মিলের পাশে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহের পরিচয় ৪৫ বছর বয়সী অপু আহমেদ, যিনি মরজাল ইউনিয়নের পাহাড় মরজাল এলাকায় বাস করতেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মরজাল এলাকার কাজী মো. বশির উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স-মিলের পাশে স্থানীয়রা রক্তাক্ত দেহটি লক্ষ্য করে। দ্রুতই পরিবার জানে এবং মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে থানা ওসি মুজিবুর রহমান জানান, দেহটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে এবং মৃতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
অপু আহমেদের পিতার নাম হাবিবুর রহমান। তিনি মরজাল ইউনিয়নের পাহাড় মরজাল গ্রাম থেকে আসা একজন কৃষক। অপু ১৯৭০ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদী কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পালানোর পর থেকে তিনি নিয়মিতই মরজাল এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন বলে জানা যায়।
পুলিশের মতে, অপু আহমেদ গত সপ্তাহে এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে গৃহস্থালির কাজের জন্য অনুরোধ করছিলেন। তার গমনাগমন স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটার আগে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। তবে তার বিরুদ্ধে থানা রেজিস্টারে একাধিক মামলা রয়েছে।
মৃতদেহে গুলির আঘাতের পাশাপাশি মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য দেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্গে করা পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী গুলির সংখ্যা এবং গুলি চালানোর দিক নির্ধারণ করা হবে।
অপু আহমেদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষ শোক প্রকাশ করেছে। তার পরিবার দুঃখে কাঁদছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে শোকের পরিবেশ দেখা যায়। স্থানীয় নেতারা ঘটনাটির দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ তদন্তে জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধের সময় কোনো গাড়ি বা গুলির আওয়াজের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে কিছু সাক্ষী দাবি করেন যে গুলির শব্দ শোনার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। গুলিবিদ্ধের সময় সন্ধ্যা সময়ের কাছাকাছি হওয়ায় আশেপাশের মানুষ গুলির শব্দ শুনে তৎক্ষণাৎ দেহটি খুঁজে পেয়েছেন।
অপরাধের প্রেক্ষাপটে অপু আহমেদের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানা রেজিস্টারে গৃহহিংসা, চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
থানা ওসি মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, অপু আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধের সময় ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন ও গুলির উৎস নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক দল কাজ করছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুসারে, গুলিবিদ্ধের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হয়। বর্তমানে পুলিশ গুলিবিদ্ধের অপরাধী সনাক্ত করতে এবং গ্রেফতার করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। গুলিবিদ্ধের অপরাধে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের জন্য থানা ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয় করে কাজ করছে।
অপু আহমেদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য থানা অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করেছে। গুলিবিদ্ধের অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য তদন্ত দল গুলির ক্যালিবার, গুলি চালানোর দিক এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করেছে।
আইনি দিক থেকে, গুলিবিদ্ধের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। গুলিবিদ্ধের অপরাধে দায়ী ব্যক্তি যদি ধরা পড়ে, তবে তিনি আইনের কঠোর শাস্তি পাবেন।
এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে থানা গুলিবিদ্ধের অপরাধী সনাক্তকরণে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাক্ষী বর্ণনা এবং সিআইডি রেকর্ডের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে যাবে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ উভয়ই এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রদায়ের শান্তি বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।



