28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবেতেহেমের প্যালেস্টাইনি শিশু ফুটবল মাঠের ধ্বংসের হুমকি

বেতেহেমের প্যালেস্টাইনি শিশু ফুটবল মাঠের ধ্বংসের হুমকি

বেতেহেমের কাছাকাছি আইদা শরণার্থী ক্যাম্পের ২০০ টিরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য ২০২০ সালে নির্মিত কৃত্রিম ঘাসের ফুটবল মাঠ, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় ধ্বংসের আদেশ পেয়েছে। ৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মাঠের গেটের ওপর একটি নোটিশে মাঠটি অবৈধ ঘোষিত হয় এবং দ্রুতই ধ্বংসের নির্দেশ জারি করা হয়।

এই মাঠটি স্থানীয় শিশুদের জন্য বিরল ক্রীড়া সুযোগ প্রদান করে, যেখানে তারা শীতের রৌদ্রের নিচে পেনাল্টি শটের অনুশীলন করে। ১০ বছর বয়সী নায়া, নেয়মার নামের ব্যাক নম্বরের ব্রাজিলিয়ান জার্সি পরা, বলেছে, “এখানে আমাদের স্বপ্ন গড়ে উঠছে; যদি মাঠ ধ্বংস হয়, স্বপ্নও ধ্বংস হবে।” অন্য এক তরুণ খেলোয়াড় মোহাম্মদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলি সরকার দাবি করে যে মাঠটি প্রয়োজনীয় নির্মাণ অনুমতি ছাড়া তৈরি হয়েছে, ফলে তা আইনগতভাবে অবৈধ। তবে প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করে, এবং মাঠের সংরক্ষণে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কেড়েছে, বিশেষ করে ফুটবলের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ক্রীড়া অবকাঠামোর গুরুত্বের আলোকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার প্রতিনিধি দল ইসরায়েলকে অনুরোধ করেছে যে, শিশুদের মৌলিক ক্রীড়া অধিকার রক্ষা করা হোক এবং কোনো ধ্বংসের কাজ অবিলম্বে স্থগিত করা হোক।

ইসরায়েলি সিভিল সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অনুমতি না পাওয়া কোনো নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক, এবং ভবিষ্যতে অনধিকারিক কাঠামো ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্যালেস্টাইনি সিভিল সোসাইটি এই পদক্ষেপকে মানবিক সংকটের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছে, যা গাজা অঞ্চলের দুই বছরের যুদ্ধ ও বর্তমান সশস্ত্র বিরতির পরিপ্রেক্ষিতে আরও তীব্রতর হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ছোটখাটো অবকাঠামো নিয়ে সংঘাতের বৃদ্ধি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সূচক হতে পারে। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরের স্থায়ী বসতি সম্প্রসারণ ও শরণার্থী ক্যাম্পের সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান আলোচনায় এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইসরায়েলি ও প্যালেস্টাইনি উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায়, এই মাঠের ভবিষ্যৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি দলও এই বিষয়টি নজরে রেখেছে এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের মতে, মাঠটি শুধু ক্রীড়া স্থান নয়, বরং শান্তি ও সহনশীলতার প্রতীক। শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, এখানে তারা দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি পায় এবং দলগত কাজের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে।

ইসরায়েলি আদালতে এই বিষয়টি নিয়ে চলমান মামলায়, আইনগত যুক্তি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ উভয়ই বিবেচনা করা হচ্ছে। আদালতকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে ধ্বংসের আদেশের কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, শরণার্থী ক্যাম্পের নিকটবর্তী কোনো ক্রীড়া সুবিধা না থাকলে শিশুরা মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তাই, এই মাঠের সংরক্ষণকে মানবিক জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ইসরায়েলি সরকার ও প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কীভাবে কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পরিচালিত হবে তার ওপর। যদি ধ্বংসের আদেশ কার্যকর হয়, তা স্থানীয় শিশুদের ক্রীড়া সুযোগের ক্ষতি ছাড়াও, অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই ঘটনাটি গাজা অঞ্চলের চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে মানবিক সহায়তা, পুনর্নির্মাণ ও শান্তি প্রক্রিয়ার সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments