বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত নীতি শীর্ষ সম্মেলনে জানালেন, যদি দল সরকার গঠন করে তবে মন্ত্রিপদে শুধুমাত্র পার্টির সদস্যই নয়, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের যোগ্য ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তাহেরের মতে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে মন্ত্রিপদে শুধুমাত্র দলীয় কর্মী না রেখে, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ নাগরিকদের নির্বাচন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শুধু দল থেকে মন্ত্রী বানাবে বিষয়টা এমন নয়। আমরা বাংলাদেশের মানুষ থেকে মন্ত্রী বানাবো। বাংলাদেশে তো অর্থমন্ত্রী হওয়ার মতো লোক আছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার লোক আছে। সুতরাং পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে যদি আমরা কনসিডার করি তাহলে কি লোকের অভাব হবে?”
সম্মেলনের মূল আলোচনায় দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার কৌশল, বৈদেশিক নীতি, এবং মাইক্রো‑ম্যাক্রো অর্থনৈতিক প্রকল্পের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। তাহের জোর দিয়ে বললেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কীভাবে আমরা গড়ে তুলবো, ফরেন পলিসি কী হবে, আমাদের মাইক্রো এবং ম্যাক্রো ইকোনমিক্সের মূল প্রজেক্টগুলো কী হবে সেগুলো উপস্থাপন করছি।”
নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের কথাও তিনি তুলে ধরেন। বর্তমান সময়ে নারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে তিনি বিশদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “এদেশের মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আজকে যে ক্রাইসিস আছে এটাকে আমরা কীভাবে ওভারকাম করব।”
বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিদেশি মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনাও আলোচনার অংশ ছিল। তাহের উল্লেখ করেন, বিদেশি বিনিয়োগকে দেশীয় অর্থনীতিতে আরও প্রবেশ করানোর জন্য নীতি ও প্রণোদনা তৈরি করা হবে। তিনি যোগ করেন, “বিদেশি বিনিয়োগ কীভাবে এখানে বেশি করে নিয়ে আসবো এবং দেশ‑বিদেশে যে এমপ্লয়মেন্ট আছে বিদেশের কর্মসংস্থানের যে ইস্যুটা আছে এই সব বিষয়ে আজকে নানা ব্যাপারে আমরা এটাকে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছি।”
তাহেরের বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে পার্টি-ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা না রেখে, জাতীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে মন্ত্রিপদ গঠন করা হবে বলে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “সুতরাং পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে যদি আমরা কনসিডার করি তাহলে কি লোকের অভাব হবে?” এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য যথাযথ প্রোফাইলের মানুষ নির্বাচন করা সম্ভব।
সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা তাহেরের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেও, তিনি প্রতিক্রিয়ায় জোর দেন যে নীতি নির্ধারণে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও বাস্তবিক পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের মাইক্রো এবং ম্যাক্রো ইকোনমিক্সের মূল প্রজেক্টগুলো কী হবে সেগুলো উপস্থাপন করছি।”
তাহেরের মন্তব্যের পর, উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতে ইসলামী সরকারের সম্ভাব্য গঠন ও তার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন। কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত দেন, যদি জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে মন্ত্রিপদে পার্টি‑বহির্ভূত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক সমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা এই পরিকল্পনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, পার্টি‑বহির্ভূত মন্ত্রিপদের নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছ ও ন্যায্য হবে তা স্পষ্ট না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে তাহেরের বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কীভাবে আমরা গড়ে তুলবো” এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সকল স্তরের নাগরিকের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
এই নীতি শীর্ষ সম্মেলনটি জামায়াতে ইসলামী দলের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাহেরের বক্তব্যের ভিত্তিতে দলটি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মন্ত্রিপদে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা রাজনৈতিক সমন্বয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।
সমাপনী মন্তব্যে তাহের উল্লেখ করেন, “সুতরাং পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে যদি আমরা কনসিডার করি তাহলে কি লোকের অভাব হবে?” এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি দৃঢ়ভাবে বললেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য যথাযথ যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ নির্বাচন করা সম্ভব, এবং এভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর সরকার গঠন করা যাবে।



