23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যঢাকা থেকে তিব্বতে সাত দিনের আধ্যাত্মিক সফর: উচ্চতার চ্যালেঞ্জ ও বৌদ্ধ ঐতিহ্য

ঢাকা থেকে তিব্বতে সাত দিনের আধ্যাত্মিক সফর: উচ্চতার চ্যালেঞ্জ ও বৌদ্ধ ঐতিহ্য

ঢাকা থেকে তিব্বতের লহসা পর্যন্ত সাত দিনের যাত্রা, উচ্চতার পার্থক্য এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এক বাংলাদেশীর অভিজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। ঢাকা থেকে কুনমিংয়ের মাধ্যমে চীন পার হয়ে, লহসা গংগার বিমানবন্দরে অবতরণ করে, ভ্রমণকারীকে পৃথিবীর ছাদে নামিয়ে আনে। এই সফরটি উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস অনুসন্ধান এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতির সমন্বয় ঘটায়।

প্রথমে ঢাকা থেকে কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়ে যাওয়া হয়। কুনমিংকে “বসন্তের শহর” বলা হয় এবং প্রায় ২,১০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যেখানে এক রাতের বিশ্রাম নেওয়া যায়। পরের দিন সকাল আটটায় লহসা গংগার বিমানবন্দরে উড়ান তোলা হয়, যা প্রায় ৩,৬৫০ মিটারের উচ্চতায় অবস্থিত এবং বিশ্বের অন্যতম উঁচু বেসামরিক বিমানবন্দর।

লহসা গংগারে অবতরণে অক্সিজেনের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশে নেমে আসে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে হালকা অসুবিধা দেখা দেয়। ভ্রমণকারীকে দ্রুত শারীরিক মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি হয়, যা উচ্চ উচ্চতায় নিরাপদে চলার মূল শর্ত। গাইড ও ড্রাইভারের সহায়তায় লহসার শহরের হোটেলে পৌঁছানোর পথে, বাংলাদেশী ভ্রমণকারীদের জন্য অপরিহার্য একটি থামা হয় আতিশ দীপঙ্কর মঠ (নয়েটাং দ্রোলমা লহাকাং)।

আতিশ দীপঙ্কর মঠ বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন শিক্ষকের স্মরণে নির্মিত এবং তিব্বতে বৌদ্ধ সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংযোগের প্রতীক। মঠের দর্শন ভ্রমণকারীর জন্য আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনঃসংযোগের সুযোগ দেয়। গাইডের ধৈর্যশীল গাইডলাইন এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ভ্রমণকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিব্বতের উচ্চতা, শীতল বাতাস এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা, উচ্চতার পার্থক্য এবং শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। তিব্বতে পৌঁছানোর পর, ভ্রমণকারীকে স্থানীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় স্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত করা হয়, যা তার আধ্যাত্মিক যাত্রাকে সমৃদ্ধ করে।

সপ্তাহব্যাপী ভ্রমণকালে, ভ্রমণকারী লহসার শহরের ঐতিহাসিক স্থান, বৌদ্ধ মঠ এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে পরিচিত হন। উচ্চতার কারণে শারীরিক ক্লান্তি কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে চলা অপরিহার্য ছিল। তিব্বতের শীতল বাতাস এবং উঁচু উচ্চতা, ঢাকা শহরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ প্রদান করে।

এই যাত্রা, বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য তিব্বতে ভ্রমণের সম্ভাবনা এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়। উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং স্থানীয় গাইডের সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা যায়। তিব্বতের বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঢাকা থেকে আসা ভ্রমণকারীর জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং আত্ম-অন্বেষণের সুযোগ প্রদান করে।

সারসংক্ষেপে, ঢাকা থেকে তিব্বতে সাত দিনের এই আধ্যাত্মিক সফর, উচ্চতার চ্যালেঞ্জ, বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি—এই তিনটি মূল দিককে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশী পর্যটক এই ধরনের উচ্চ উচ্চতার গন্তব্যে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে, এবং তিব্বতের অনন্য পরিবেশ ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে পারবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments