28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনেতানিয়াহু ইরানের আক্রমণ হলে ইসরায়েল শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবেন

নেতানিয়াহু ইরানের আক্রমণ হলে ইসরায়েল শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবেন

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কনেসেটে এক বক্তৃতায় ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে ইসরায়েল এমন শক্তি ব্যবহার করবে যা তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অপ্রত্যাশিত হবে, এ কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি এই সতর্কতা দিলেন যখন ইরানের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দেশটি কিছুটা শান্ত অবস্থায় ফিরে এসেছে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা গত কয়েক মাসে তীব্রতর হয়েছে, বিশেষ করে পার্সিয়ান উপসাগরে সামরিক কার্যক্রম বাড়ার ফলে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বাড়ছে। তেহরানকে ঘিরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা টেল আবিবের নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নেতানিয়াহু কনেসেটের সদস্যদের সামনে তার বক্তব্যের সূচনা করেন ইরানের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সহিংসতার পর দেশের শান্তি পুনরুদ্ধারের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে। তিনি উল্লেখ করেন যে তেহরান এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, তবে ইসরায়েল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বললেন, যদি ইরান কোনোভাবে ইসরায়েলের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালায়, তবে ইসরায়েল এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেবে যা তেহরানের সামরিক পরিকল্পনায় কখনও দেখা যায়নি। তিনি এই প্রতিক্রিয়াকে “অপ্রত্যাশিত শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হবে।

নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, ইরানের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে তা কেউ সঠিকভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে না, কারণ দেশটি আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপের দিকে ইঙ্গিত করে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তেহরানের সামরিক কার্যক্রমের উপর তীব্র নজরদারি চালু করেছে এবং সম্ভাব্য হুমকির জন্য জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। টেল আবিবের গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল এবং সম্ভাব্য আক্রমণ পথ বিশ্লেষণ করছে।

ইরানের দিক থেকে কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলের এই সতর্কতাকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন। অঞ্চলীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে, কারণ কোনো সরাসরি সংঘাতের বিস্তার পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নেতানিয়াহুর এই সতর্কতা ইসরায়েলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে, যাতে ইরানের কোনো আক্রমণ পরিকল্পনা রোধ করা যায়। একই সঙ্গে, ইসরায়েল তার পারমাণবিক ও conventional সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, এই ধরনের দৃঢ় বক্তব্য নেতানিয়াহুর সরকারকে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করে। তিনি তার সমর্থকদের কাছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আসন্ন সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের ফলে উভয় পক্ষই সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে সমঝোতার পথে অগ্রসর হতে পারে। নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই সতর্কতা ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments