বর্ডার ২ চলচ্চিত্রটি শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি বড় পর্দায় আসতে যাচ্ছে। প্রকাশের একদিন আগে, রবিবারই টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য অপ্রত্যাশিত আনন্দ নিয়ে এসেছে। একই সময়ে, বড় বড় সিনেমা, বিশেষ করে ধুরন্ধর, আগের দিন থেকেই টিকিট বিক্রি শুরু করায়, একাধিক থিয়েটার দ্রুত বুকিং চালু করেছে।
বিতরণকারী সংস্থা একক স্ক্রিন থিয়েটারগুলোকে দুই সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ শো বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। বহুস্ক্রিন থিয়েটারগুলোকে এক সপ্তাহের জন্য একই নীতি মানতে বলা হয়েছে। দুই স্ক্রিনের থিয়েটারগুলোতে সব শো বর্ডার ২-তে নির্ধারিত হবে, আর তিন স্ক্রিনের হলে দৈনিক বারোটি শো চালানো বাধ্যতামূলক।
চার, পাঁচ ও ছয় স্ক্রিনের মাল্টিপ্লেক্সগুলোকে যথাক্রমে চৌদ্দ, ষোল ও অষ্টাদশ শো দৈনিক প্রদর্শন করতে হবে। সাত বা ততোধিক স্ক্রিনের হলে বিশটি শো প্রতিদিন দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই শো সংখ্যা চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য—৩ ঘণ্টা ১৯ মিনিট—ধরে নির্ধারিত, যার ফলে অধিকাংশ থিয়েটারে শোয়ের মধ্যে চার ঘণ্টার বিরতি রাখা সম্ভব।
ফিল্মের দীর্ঘ সময়কাল বিবেচনা করে, যদি থিয়েটারগুলো দিনে চারটি শো চালায়, তবে তিন স্ক্রিনের হলে সব শো বর্ডার ২-তে সীমাবদ্ধ করা যায়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্যান্য চলচ্চিত্রের শো সময়সূচি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
বুকিংয়ের গতি অত্যন্ত উজ্জ্বল। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায়, পিভিআর, ইনক্স ও সাইনেপলিসের শীর্ষ তিনটি চেইনে মোট ১৩,৫০০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এই সংখ্যা প্রকাশের আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, প্রথম সপ্তাহে বর্ডার ২ প্রায় ৪০ কোটি টাকার আয় অর্জন করবে। মুক্তির দিনটি চার দিনের ছুটির সঙ্গে মিলে, কারণ সোমবারের জাতীয় ছুটি—গণতান্ত্রিক দিবস—দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত সময় তৈরি করেছে। ফলে, প্রথম সপ্তাহের সংগ্রহের পরিমাণ অতিরিক্তভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বহু থিয়েটার এখন থেকে বর্ডার ২-কে প্রধান শো হিসেবে স্থাপন করবে, ফলে অন্যান্য চলচ্চিত্রের শো সময়সূচি সাময়িকভাবে হ্রাস পাবে। এই পদক্ষেপটি বিতরণকারী সংস্থার বাজারে প্রভাব বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।
বর্ডার ২-র গল্প, কাস্ট ও সঙ্গীতের ব্যাপারে আগ্রহী দর্শকরা, এই শর্তাবলীর ফলে একাধিক শোতে অংশ নিতে পারবেন। চলচ্চিত্রের দীর্ঘ সময়কাল এবং উচ্চ প্রত্যাশা, দু’ইই দর্শকদের আকৃষ্ট করার মূল কারণ।
থিয়েটার মালিকদের জন্য এই নির্দেশনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, তবে একই সঙ্গে টিকিট বিক্রির সম্ভাবনা বাড়ায়। শো সংখ্যা বাড়িয়ে, থিয়েটারগুলো অতিরিক্ত আয় অর্জনের সুযোগ পাবে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের শো নির্ধারণের পদ্ধতি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের জন্য সাধারণ, যা বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। বর্ডার ২-র ক্ষেত্রে, এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বড় ছুটির সঙ্গে মিলে।
দর্শকরা, বিশেষ করে শহরের যুবক-যুবতীরা, এই নতুন রিলিজের জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করে রেখেছেন। সামাজিক মিডিয়ায় বর্ডার ২-র পোস্টার ও ট্রেলার ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে, যা টিকিট বিক্রির গতি বাড়াচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বর্ডার ২-র মুক্তি, আগাম বুকিং, শো নির্ধারণের নীতি ও ছুটির সমন্বয়, এই চলচ্চিত্রকে দেশের বিনোদন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেবে।



