22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসাভার সিরিয়াল কিলারের প্রকৃত নাম ও পরিচয় প্রকাশে পুলিশ তদন্ত চালু

সাভার সিরিয়াল কিলারের প্রকৃত নাম ও পরিচয় প্রকাশে পুলিশ তদন্ত চালু

সাভার এলাকায় ধারাবাহিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন, যাকে মিডিয়ায় “সম্রাট” নামে চেনা যায়, তার প্রকৃত পরিচয় ও পরিবারিক পটভূমি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেন যে, আদালতে সম্রাটের দেওয়া স্বীকারোক্তির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের জানামতে, গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজনের আসল নাম সবুজ শেখ, পিতার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান, বড় বোনের নাম শারমিন। পরিবারটি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা, হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছে, আর কিছু আত্মীয়বরিশাল অঞ্চলে বসবাস করে।

সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ সব ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে, এরপর তাকে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের সামনে ছয়টি হত্যার মামলায় তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং জবানবন্দি শেষে কারাগারে স্থানান্তরিত হন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেনও মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাভার মডেল থানা ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ঘোরাফেরা করা সম্রাট, কখনো নিজেকে “কিং সম্রাট” এবং কখনো “মশিউর রহমান খান সম্রাট” বলে পরিচয় দিয়েছে। রোববারের জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর তার নাম মিডিয়ায় উঠে আসে। তদন্তে জানা যায়, তিনি কয়েক বছর ধরে সাভার মডেল থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড়ের আশেপাশে রাত কাটাতেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ব্যাংক কলোনি এলাকায় বসবাসের কথা বললেও, পুলিশ সেই ঠিকানার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। একই এলাকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামও মশিউর রহমান খান সম্রাটের সঙ্গে মিল থাকায় তদন্তে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সম্রাটের হত্যার কারণ সম্পর্কে তার দেওয়া বিবৃতি নিয়ে পুলিশ সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অজ্ঞাত পাঁচজনসহ ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করার পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে সম্রাট বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন, যা এখন সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, আদালতে পরবর্তী শুনানিতে সম্রাটের অতিরিক্ত স্বীকারোক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, সবুজের বাড়ি, কাজের স্থান ও সম্ভাব্য সহায়কদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এমন অন্যান্য সন্দেহভাজনদেরও অনুসন্ধান চালু রয়েছে।

সাবেক সন্দেহভাজনের পরিচয় গোপন রেখে দরিদ্র নারীদের ফাঁদে ফেলে নির্জন ভবনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে, পুলিশ এখনো তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। তদন্তকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সম্রাটের পূর্বে সাভার মডেল থানা ও আশেপাশের সরকারি অফিসের নিকটে ঘোরাফেরা করার রেকর্ড রয়েছে, যা তার অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসন্ন আদালত শুনানিতে, সম্রাটের স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত দণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি, তার অপরাধের পেছনের প্রেরণা ও সম্ভাব্য সহায়কদের সনাক্ত করা হবে। পুলিশ ও আদালত উভয়ই এই মামলাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ধারাবাহিক তদন্তের ফলে, সাভার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments