সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে, দেশের প্রায় দশজন নাগরিকের মধ্যে একজনের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই। অর্থাৎ, তারা এমন কাউকে চিহ্নিত করতে পারছেন না, যার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মুক্তমনা আলোচনা করা যায় বা জরুরি সময়ে সাহায্য চাওয়া যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার প্রধান মাধ্যম এখনও সরাসরি মুখোমুখি সাক্ষাৎ। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই জানান যে, তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে প্রথম পরিচয় স্কুল, কলেজ, কর্মস্থল অথবা দৈনন্দিন সামাজিক পরিবেশে হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নয়।
ডিজিটাল যুগের প্রসার সত্ত্বেও, অনলাইন বন্ধুত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম। সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র ২৩.২ শতাংশ মানুষই অন্তত একজন অনলাইন বন্ধুকে উল্লেখ করেছেন, যাদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ইন্টারনেট বা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে হয়েছে এবং যাদের সঙ্গে যোগাযোগ মূলত ভার্চুয়ালই সীমাবদ্ধ।
বয়সের পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সের গোষ্ঠীতে ৪৩.৫ শতাংশ respondents অনলাইন বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই হার ২০.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
শিক্ষা স্তরও অনলাইন বন্ধুত্বের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৩৫.৮ শতাংশ অনলাইন বন্ধুর অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন, যেখানে মাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষার স্তরে এই হার ২৩ শতাংশেরও কম।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্ধুত্বের বৈচিত্র্য—বয়স, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয় বা শিক্ষাগত পটভূমি—সামাজিক আস্থা, অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এমনকি অনলাইন ভিত্তিক কিছু বন্ধুত্বও মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সমর্থনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, সমীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের ব্যবহারও আলোচিত হয়েছে। ফলাফল দেখায় যে, প্রতি দশজনের মধ্যে একজন ব্যক্তিগত কথোপকথন, মানসিক সহায়তা বা আবেগীয় সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। তবে অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগ বাস্তব বন্ধুত্বের সমতুল্য নয়।
এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, সিঙ্গাপুরে সামাজিক সংযোগের ধরণ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে সরাসরি মানবিক মিথস্ক্রিয়া এখনও প্রধান ভূমিকা পালন করে। অনলাইন সম্পর্কের বৃদ্ধি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশি, তবে তা এখনও মোট বন্ধুত্বের একটি ছোট অংশ গঠন করে।
স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার দৃষ্টিকোণ থেকে, ঘনিষ্ঠ সামাজিক নেটওয়ার্কের অভাব একা থাকা, উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন বাড়াতে পারে। তাই, ব্যক্তিগতভাবে বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করা জরুরি। একই সঙ্গে, এআই চ্যাটবটের ব্যবহার মানসিক সহায়তার এক বিকল্প হতে পারে, তবে তা বাস্তব মানবিক সংযোগের বিকল্প হিসেবে নয়।
সামাজিক সংযোগের এই পরিবর্তনকে বিবেচনা করে, বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন যে, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কমিউনিটি গোষ্ঠী বন্ধুত্বের সুযোগ বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে সমর্থনকারী পরিবেশে রূপান্তরিত করা দরকার।
আপনার সামাজিক নেটওয়ার্ক কতটা শক্তিশালী? নতুন সংযোগ গড়ে তোলার জন্য আপনি কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন?



