22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস: ১৯৬৯ সালের গুলিবিদ্ধ ছাত্র নেতা ও আন্দোলনের...

২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস: ১৯৬৯ সালের গুলিবিদ্ধ ছাত্র নেতা ও আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

২০ জানুয়ারি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে শহীদ আসাদ দিবস পালিত হয়। ঐ দিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় ছাত্র-জনতার ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন এবং বহু সহপাঠী আহত হন। গুলিবিদ্ধের পরেই আন্দোলন তীব্রতা পায়, স্বাধিকারের দাবিতে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, যা শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

শহীদ আসাদের আত্মত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে। প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, আজকের অনুষ্ঠানে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তিকামী মানুষের স্মৃতিতে অম্লান রয়ে গেছেন। তিনি যোগ করেন, আসাদের ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য দায়িত্ব নিতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে।

সকাল আটটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মূল ফটকের সামনে নির্মিত শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা এবং শোকস্মরণীয় অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেখানে উপস্থিত সবাই শোকের সুরে শহীদকে স্মরণ করে। এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্রিত হয়। তারা একসাথে শহীদ আসাদের সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরুজ্জীবন করে।

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের লড়াকু সাংস্কৃতিক জোট “গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য” এর তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানটি সমন্বিত হয়। জোটের সদস্যরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও স্মরণীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে শহীদ আসাদের ত্যাগকে স্মরণীয় রাখে এবং বর্তমানের রাজনৈতিক পরিবেশে ঐতিহাসিক শিক্ষা তুলে ধরে।

পুলিশের গুলির কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি, তবে ঐ সময়ের রেকর্ডে দেখা যায় যে নিরাপত্তা বাহিনী জনসাধারণের সমাবেশে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এই ঘটনা তখনকার রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্বাধিকার দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

শহীদ আসাদ দিবসের উদযাপন শুধুমাত্র শোকের মুহূর্ত নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতীক। আজকের স্মরণীয় অনুষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে, এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানায়।

এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে, কারণ এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ববর্তী সময়ের সংগ্রাম ও ত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শহীদ আসাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে সঞ্চারিত আদর্শ ও মূল্যবোধ আজও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনার বিষয়, যা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবসের অনুষ্ঠানগুলো ঐতিহাসিক স্মৃতি, রাজনৈতিক সংহতি এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটায়, যা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments