28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিটি-১ চাংখারপুল হত্যাকাণ্ডের রায় জানুয়ারি ২৬-এ স্থগিত

আইসিটি-১ চাংখারপুল হত্যাকাণ্ডের রায় জানুয়ারি ২৬-এ স্থগিত

ঢাকার চাংখারপুল এলাকায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জনের মৃত্যু ঘটানো মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) রায় জানুয়ারি ২৬ পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায়। রায়ের মূল তারিখ আজ নির্ধারিত ছিল, তবে বিচারিক দল জানায় যে রায় প্রস্তুত হয়নি এবং নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

বিচারিক দলের প্রধান, বিচারপতি মোঃ গোলাম মরতুজা মজুমদার, আদালতের সেশন চলাকালীন এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আজ রায়ের দিন ছিল, তবে রায় এখনও প্রস্তুত হয়নি, তাই নতুন তারিখ জানুয়ারি ২৬ নির্ধারিত হয়েছে।”

মামলায় মোট আটজন পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্ত, যার মধ্যে প্রাক্তন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, যৌথ কমিশনার সুধিপ কুমার চক্রবর্তী, প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলাম, রামনা জোনের প্রাক্তন সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগের প্রাক্তন অপারেশনস ইন্সপেক্টর আরশাদ হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন, নাসিরুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুল জেলায় আটক, অন্য চারজন বর্তমানে অনুপস্থিত।

প্রসিকিউশন দাবি করে যে হাবিবুর, সুধিপ, আখতারুল, ইমরুল ও আরশাদ কমান্ড দায়িত্বে ছিলেন এবং যৌথ অপরাধী সংস্থার অংশ হিসেবে উস্কানি, সহায়তা ও সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের ওপর অভিযোগ আরোপ করা হয়েছে যে তারা ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন।

কনস্টেবল সুজন, ইমাজ ও নাসিরুলকে রাইফেল ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, তারা চাংখারপুল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গুলি চালিয়ে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছেন। এই গুলিবর্ষণ ৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ঘটেছিল।

সেই দিন সন্ধ্যায় প্রতিবাদকারীরা চাংখারপুলের রাস্তায় একত্রিত হয়ে সরকারের নীতি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে মত প্রকাশ করছিল। গুলিবর্ষণের ফলে শ্রীহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মোহাম্মদ যাকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া সহ ছয়জনের মৃত্যু হয়। সকল শিকারের দেহ পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে দ্রুতই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।

মৃত্যুর পরপরই শিকারের আত্মীয়স্বজন আইসিটি‑১ আদালতের সামনে সমবেত হন, যাতে তারা রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে পারেন। পরিবারগুলো আদালতের প্রাঙ্গণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে, কিছুজন শান্তভাবে বসে থাকে, আবার কেউ কেউ উদ্বেগের সঙ্গে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে।

মহিলা ও পুরুষ উভয়ই শোকের ছায়ায় উপস্থিত ছিলেন, তবে তাদের মুখে দৃঢ়তা স্পষ্ট ছিল। তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

মোহাম্মদ যাকুবের মা রাহিমা আখতারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ছয় দশকের বয়সে আদালতের উঠোনে দাঁড়িয়ে নিজের একমাত্র পুত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কষ্ট প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার সন্তানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এখন আইন কি আমাদের শোক স্বীকার করবে তা দেখতে চাই।”

আইসিটি‑১ রায়ের নতুন তারিখ জানুয়ারি ২৬ নির্ধারিত হওয়ায় মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে। আদালত এই তারিখে রায় প্রদান করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত দণ্ড নির্ধারণ করবে।

এই রায়ের স্থগিতকরণ দেশের মানবাধিকার ও আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে আইসিটি‑১ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে রায়ের যথাযথ প্রস্তুতি ও প্রমাণের বিশ্লেষণ নিশ্চিত করার জন্য সময় প্রয়োজন, যাতে ন্যায়বিচার সঠিকভাবে প্রদান করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments