সৌদি আরবের মানব সম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ১৯ জানুয়ারি একটি নীতি ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে মার্কেটিং ও সেলস খাতে তিনজন বা ততোধিক কর্মীযুক্ত সব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ষাট শতাংশ স্থানীয় নাগরিককে কর্মী হিসেবে রাখতে হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শ্রমবাজারে সৌদিদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তাদের জন্য স্থিতিশীল ও মানসম্মত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নিয়মের অধীনে স্থানীয় কর্মীর ন্যূনতম মাসিক বেতন ৫,৫০০ সৌদি রিয়াল নির্ধারিত হয়েছে। এই বেতন কাঠামো তিন মাসের পর থেকে কার্যকর হবে, অর্থাৎ ২২ এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে।
মার্কেটিং সেক্টরে এই বিধানটি নিম্নলিখিত পদগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে: মার্কেটিং ম্যানেজার, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার, বিজ্ঞাপন এজেন্ট, মার্কেটিং স্পেশালিস্ট, গ্রাফিক ডিজাইনার, বিজ্ঞাপন ডিজাইনার এবং পাবলিক রিলেশনস কর্মী। বেসরকারি খাতের সব মার্কেটিং সংস্থাকে এই শর্ত মেনে চলতে হবে।
সেলস ক্ষেত্রেও একই রকম শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তিনজন বা ততোধিক কর্মীযুক্ত সেলস প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট কর্মীর কমপক্ষে ষাট শতাংশকে সৌদি নাগরিক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এতে সেলস ম্যানেজার, খুচরা ও পাইকারি বিক্রয় প্রতিনিধি, আইটি ও যোগাযোগ যন্ত্রাংশ বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, সেলস স্পেশালিস্ট এবং কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট পদগুলো অন্তর্ভুক্ত।
এই নীতি প্রয়োগের ফলে বিদেশি কর্মীদের জন্য উপলব্ধ কাজের সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে মার্কেটিং ও সেলস খাতে বহুলাংশে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন স্থানীয় কর্মী নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন ব্যয় করতে হবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেতন কাঠামোও নির্ধারিত হওয়ায় তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে। শ্রমবাজারে স্থানীয় কর্মীর অংশ বাড়ার ফলে কোম্পানিগুলোকে মানবসম্পদ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করবে।
বেসরকারি খাতের বড় বড় মার্কেটিং ও সেলস সংস্থা, যেমন আল-ইব্রাহিম এডভারটাইজিং এবং রিয়াদ সেলস গ্রুপ, ইতিমধ্যে এই নীতি সম্পর্কে জানিয়ে তাদের মানবসম্পদ নীতি সমন্বয় করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, স্থানীয় কর্মীর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
কোম্পানিগুলোকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হলে কর্মী তালিকা পুনরায় গঠন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এতে সংস্থার অপারেশনাল খরচ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সংহতি বাড়ার ফলে ব্যবসার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সৌদি সরকার শ্রমবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চায়, যাতে বিদেশি শ্রমিকের উপর নির্ভরতা কমে এবং দেশীয় কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সরকার উল্লেখ করেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং যোগ্য সৌদি নাগরিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সংস্থাগুলোকে নতুন নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হতে পারে। তবে এই বিনিয়োগের ফলস্বরূপ স্থানীয় কর্মীর উৎপাদনশীলতা ও গ্রাহক সেবার মান উন্নত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার লাভজনকতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সৌদি আরবের এই নীতি অন্যান্য গুলফ দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে, যেখানে স্থানীয় কর্মশক্তির অংশ বাড়ানোর জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের শ্রমবাজারের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, তাই নীতির প্রয়োগে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়ম মার্কেটিং ও সেলস খাতে স্থানীয় কর্মীর অংশ বাড়াবে, বিদেশি কর্মীর সুযোগ কমাবে এবং শ্রমবাজারের গঠনমূলক পরিবর্তন ঘটাবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানবসম্পদ কৌশল পুনর্গঠন করতে হবে।
এই নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মধ্যে সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।



