ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্লে‑অফ পর্ব আজ থেকে শুরু হয়েছে। লিগের শেষ পর্যায়ে চারটি দল স্থান পেয়েছে: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, সিলেট টাইটানস এবং রংপুর রাইডার্স। এই দলগুলোই এই সপ্তাহে দুইটি ফাইনালিস্ট নির্ধারণের জন্য মুখোমুখি হবে।
লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচগুলো মিরপুরের শের‑এ‑বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ধারাবাহিক দিনে ছয়টি ম্যাচের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। লিগের সূচনা থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে প্রথম দিনে কোনো খেলা হয়নি, তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে মাঠে খেলাধুলা চালু হয়।
প্লে‑অফের প্রথম ম্যাচ, যাকে এলিমিনেটর বলা হয়, আজ দুপুর ১ টায় সিলেট টাইটানসের মুখোমুখি রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচের পরাজিত দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়বে, আর বিজয়ী দল পরবর্তী কোয়ালিফায়ার ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত হবে কোয়ালিফায়ার‑১, যেখানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। কোয়ালিফায়ার‑১-এ জয়ী দল সরাসরি ফাইনালের টিকিট পাবে, আর হারা দলকে কোয়ালিফায়ার‑২-তে এলিমিনেটরের বিজয়ীর সঙ্গে খেলতে হবে।
লিগ পর্যায়ে স্কোরিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠে এসেছে। পুরো লিগে একবারও ২০০ রানের ইনিংস দেখা যায়নি, ব্যাটারদের সংগ্রাম এবং ম্যাচের ফলাফল আগেভাগে নির্ধারিত হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে বিরক্তি বাড়ে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি এবং আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের অভাবকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অনেক ভক্তের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে—বিপিএল কি এখনও দেশের ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ বজায় রাখতে পারবে? তবে এই উদ্বেগের মাঝেও প্লে‑অফের উত্তেজনা ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অলরাউন্ডার জিমি নিশাম বললেন, “দল হিসেবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। লিগ পর্যায়ে শীর্ষে শেষ করার ফলে ফাইনালের পথে আমাদের দ্বিতীয় সুযোগ এসেছে। তবে আজ নতুন ম্যাচ, দুজনেই সমান শর্তে শুরু করবে, তাই ভালো ক্রিকেট দেখাতে হবে।”
সিলেট টাইটানসের হয়ে ইংলিশ ক্রিকেটার ইথান ব্রুকস মন্তব্য করেন, “আমরা ইতিবাচক মানসিকতায় আছি। নকআউট ম্যাচে রংপুরের মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করতে আমাদের সেরাটা দিতে হবে। আক্রমণাত্মক এবং স্মার্ট ক্রিকেটের সমন্বয়ই জয়ের চাবিকাঠি, সবাই খুব রোমাঞ্চিত।”
এলিমিনেটরের বিজয়ী দল কোয়ালিফায়ার‑২-তে হারের পর দলকে মুখোমুখি হবে, ফলে ফাইনালের জন্য শেষ দুইটি সিট নির্ধারিত হবে। এই পর্যায়ে প্রতিটি দলই একক সুযোগের মুখে রয়েছে, তাই ম্যাচগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত।
প্লে‑অফের ফলাফল সরাসরি ফাইনালের রোডম্যাপ গঠন করবে, যেখানে বিজয়ী দল শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের জন্য একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং দলের প্রস্তুতি মিলিয়ে এই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত গড়ে উঠবে।



