28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসাভার মডেল থানায় গ্রেপ্তার যুবকের স্বীকারোক্তি ও চারটি হত্যার সংযোগ

সাভার মডেল থানায় গ্রেপ্তার যুবকের স্বীকারোক্তি ও চারটি হত্যার সংযোগ

সাভার মডেল থানা থেকে সোমবার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম মামলার বর্তমান অবস্থা জানালেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, হোমলেস সন্দেহভাজন মশিউর রহমান খান সম্রাটকে দশ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের অনুমোদন রাত ৯ টার আগে না পেয়ে, তাকে অতিরিক্ত জেলাসহ রিলিজ করা হয়নি।

সম্রাটকে রোববারই গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, যখন তিনি সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লা থেকে আসা ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তি হিসেবে ধরা পড়েন। তিনি মৃত সালামের পুত্র, এবং সাভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন বলে জানা যায়।

অধিকারের মতে, সম্রাট প্রথমে মডেল মসজিদের পাশে বাস করা ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আসমা বেগমকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাতের দিকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একটি যুবকের হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়।

১১ অক্টোবর রাতে একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ৩০ বছর বয়সী এক নারীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি কোনো চিহ্ন ছাড়া পাওয়া গিয়েছিল, ফলে তদন্তে অতিরিক্ত জটিলতা দেখা দেয়।

১৯ ডিসেম্বর দুপুরে, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের পুড়ে যাওয়া দেহ পাওয়া যায়। দেহের অবস্থা থেকে বোঝা যায়, মৃত্যুর আগে তাকে আগুনে জ্বালানো হয়েছিল।

পরবর্তী পর্যায়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, এবং ক্যামেরার রেকর্ডে দেখা যায় সম্রাট এক দেহকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করার মূল প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেন যে তিনি উপরে উল্লেখিত সব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এই অপরাধে অন্য কোনো সহযোদ্ধা আছে কি না তা এখনও তদন্তাধীন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ আইডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিকারদের সনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের ৪ জুলাই, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সাভার মডেল মসজিদ সংলগ্নে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধার দেহ পাওয়া যায়। তার নাতি মো. মিঠু মিয়া দেহটি শনাক্ত করে, নাম প্রকাশ করে আসমা বেগম।

দুই দিন পরই সাভার মডেল থানায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর জন্য অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তিনি শ্বাসরোধের মাধ্যমে মারা গেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম দাবি করেন, সম্রাটই এই হত্যাকাণ্ডের মূল দায়ী।

বর্তমানে সম্রাটের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর না হওয়া পর্যন্ত আদালতে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আদালত তার রিম্যান্ডের শর্তাবলী নির্ধারণের পর, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের মতে, সব প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের জন্য একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments