ইলেকশন কমিশন (ইসি) আজ, ২০ জানুয়ারি, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছে। সভাটি ইসির সচিবালয়ের বেজমেন্ট‑২ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটদানকে সহজতর করার লক্ষ্যে পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ (BDBI) ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়।
ব্রিফিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটার নিবন্ধন, ভোটের নিরাপত্তা এবং ফলাফল যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। ইসি কর্মকর্তারা অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে ভোটারদের পরিচয় যাচাই করা হবে, ভোটের গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা হবে এবং ফলাফল কীভাবে দ্রুত সংগ্রহ করা হবে তা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।
ইসির প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সভাটি বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলবে এবং সব দলকে সমানভাবে তথ্য প্রদান করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতীক বরাদ্দের পর দেশীয় ও বিদেশি ভোটাররা পোস্টাল ভোটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে। এই ব্যবস্থা ভোটারদের বাড়ি থেকে বা বিদেশে বসবাসের অবস্থান নির্বিশেষে ভোটদান সম্ভব করে তুলবে, ফলে দূরবর্তী এলাকায় ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের উপর বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। দলগুলোর প্রতিনিধিরা এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইসির নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজেদের ভোটার তালিকা আপডেট করার কথা জানিয়েছেন।
ইসি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, পোস্টাল ভোটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বহু স্তরের প্রমাণীকরণ প্রয়োগ করা হবে। ভোটারদের মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে একবারের পাসওয়ার্ড (OTP) পাঠিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটের ডেটা এনক্রিপ্টেড ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া, ভোটের ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশের জন্য স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার সহজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বর্তমানে পোস্টাল ভোটিং অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ভোটারদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসি সিস্টেমের স্কেলেবিলিটি ও ত্রুটি-মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত সমর্থন প্রদান করছে।
ইসির মতে, পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করবে, ফলে ভোটারদের জন্য সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে, ভোটের গোপনীয়তা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সিস্টেমে রিয়েল‑টাইম মনিটরিং ও অডিটিং ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ইসি পোস্টাল ভোটিং সিস্টেমের চূড়ান্ত নির্দেশিকা শীঘ্রই প্রকাশ করবে। এরপর ভোটারদের নিবন্ধন ও অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রশিক্ষণ ও তথ্যসেশন চালু করা হবে।
এই সভা ইসির ভোটদান প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।



