নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) আজ বিকাল ৪টায় ঢাকা, আগারগাঁও-এ অবস্থিত তার সদর দফতরের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান প্রতিনিধিদের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালেট ও ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য প্রযোজ্য প্রক্রিয়ার স্পষ্টতা নিশ্চিত করা।
কমিশন প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে দুইজন প্রতিনিধি পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশ্নগুলো একত্রে উপস্থাপন করা যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্যও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে; তারা নিজে উপস্থিত হতে পারেন অথবা একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন।
আলোচনার পর ইসিসি মিডিয়ার সঙ্গে একটি ব্রিফিং সেশন পরিচালনা করবে, যেখানে পোস্টাল ভোটিং সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য ও প্রক্রিয়ার বিবরণ প্রদান করা হবে। এই ধাপটি ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
ইসিসির একজন কমিশনার, মো. আনওয়ারুল ইসলাম সরকার, উল্লেখ করেছেন যে আজকের সভায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে বিদেশি ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ভোটিং সিস্টেমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের সব দূতাবাসকে এই আলোচনায় যুক্ত করা হবে, যাতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি নাগরিকদের মতামত ও সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা যায়।
কমিশনারের মতে, আলোচনার মূল বিষয়গুলো হবে পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, ভোটারদের মুখোমুখি হওয়া অসুবিধা, এবং বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ। এছাড়া, ভোটারদের প্রস্তাবিত সমাধান ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের ধারণা জানার জন্যও সময় বরাদ্দ করা হবে।
এই সভা দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে বিদেশি ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত ভবিষ্যতে ভোটিং পদ্ধতির উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, পোস্টাল ভোটিং সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন বা আপডেটের বিষয়ে ভোটারদের সময়মতো তথ্য প্রদান করা হবে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের বিভ্রান্তি না ঘটে। এছাড়া, ভোটারদের অভিযোগ ও পরামর্শ সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন ও ইমেল ঠিকানা চালু করা হবে।
আলোচনার পর মিডিয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে কমিশন আরও স্পষ্ট করে বলবে কিভাবে বিদেশি ভোটারদের ভোট সংগ্রহ, যাচাই এবং গণনার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এই তথ্যগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য হবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের সভা পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক দল, স্বাধীন প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের সংলাপ ভোটারদের আস্থা জোরদার করবে এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নত করবে।
ইসিসি ভবিষ্যতে পোস্টাল ব্যালেটের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।



