28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআসন্ন নির্বাচন আগে দারিদ্র্য ও বেতন স্থবিরতা মোকাবেলায় রাজনৈতিক এজেন্ডা গঠন জরুরি

আসন্ন নির্বাচন আগে দারিদ্র্য ও বেতন স্থবিরতা মোকাবেলায় রাজনৈতিক এজেন্ডা গঠন জরুরি

জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকায় দলগুলো তাদের নির্বাচনী সিলেকশন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দারিদ্র্য হ্রাস এবং বেতন স্থবিরতা মোকাবেলা না করলে পরবর্তী সরকারকে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হবে।

দুই বছর আগে, সাভারের এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করা মাহবুবুর রহমানকে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে চাকরি ছাড়তে হয়। এখন তিনি নার্সারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে, স্ত্রীর সঙ্গে দুই কন্যার জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন মাহবুবুরের গল্প শ্রমিক শ্রেণীর দুর্বল অবস্থার একটি বাস্তব উদাহরণ। তিনি আশাবাদী যে, শীঘ্রই আসা নির্বাচনের ফলে শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং তিনি আবার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে পারবেন।

অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলছেন, পুনর্বণ্টন নীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে থাকবে, যা সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। ১৯৮০-এর দশক থেকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, তবে কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এই অগ্রগতিকে উল্টে দিয়েছে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নতুন অনুমান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১৮.৭ শতাংশ দারিদ্র্যের সীমা অতিক্রম করলেও, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই হার ২৭.৯৩ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো মুথাফিজুর রহমান, সিপিডি-তে, এই প্রবণতাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা স্বীকার করছেন, দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমেয়াদী আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। টেকসই দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য বাণিজ্য, রপ্তানি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া উচিত, সাময়িক তহবিলের ওপর নির্ভর না করে।

সংকট কেবল বেকারত্বেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কর্মরত শ্রমিকদেরও প্রভাবিত করছে। উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরা এখনো আনুষ্ঠানিক খাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, হারুন ওর রশিদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষিত, একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, কারণ তার মাসিক বেতন মাত্র ১২,০০০ টাকা, যা জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত।

অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সরকারকে কর্মসংস্থান নীতি পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে বেতন বৃদ্ধি এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এভাবে শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্যের চক্র ভাঙা সম্ভব হবে। এছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা দরকার, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যমান কর্মী দক্ষতা বাড়াতে পারে।

দারিদ্র্য হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা জালের চাপও বাড়ছে। তাই, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। না হলে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে থাকবে এবং সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে।

শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই দারিদ্র্য সমস্যার সমাধান না হলে, পরবর্তী সরকারকে কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তাই, নির্বাচনের পূর্বে দারিদ্র্য হ্রাস, বেতন স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য স্পষ্ট নীতি গঠন করা দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments