ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ – রাজধানীর বনানী এলাকায় রাতের বেলায় রাইড‑শেয়ার সেবা প্রদানকারী কাজী মোহাম্মদ এ. হাদীদ গাড়ি চালিয়ে যাত্রী নামানোর পর মূত্রত্যাগের জন্য এক নির্জন স্থানে থেমে থাকেন। চারজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন, ছুরিকাঘাতের হুমকি দিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন এবং শারীরিক আঘাত করেন।
জাতীয় অপরাধ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অপহরণের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাই মামলার সংখ্যা ১,৯৩৫-এ পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ডাকাতির মামলা ৭০২-এ পৌঁছেছে, যা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। চুরির মামলাও ১২ শতাংশ বাড়ে। বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধিই অপরাধের প্রবণতা বাড়ার সূচক, যা সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বোধকে ক্ষুন্ন করে।
এই ধরনের অপরাধের প্রভাব দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট। রাইড‑শেয়ার চালকদের পাশাপাশি যাত্রী, দোকানদার ও পথচারীরা সবই হুমকির মুখে পড়ে। অপরাধের বৃদ্ধি সামাজিক উদ্বেগ বাড়ায় এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।
হাদীদের ঘটনায়, ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ও আশেপাশের লোকজন দুজনকে ধরতে সক্ষম হন, তবে এতে তার হাতে আঘাত লেগে এক মাস কাজ করতে পারেননি। তিনি জানান, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া অপরাধীরা পালিয়ে গিয়েছেন, তবে মোবাইলটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার ফলে হাদীদের আর্থিক ক্ষতি, শারীরিক আঘাত এবং কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে।
হাদীদের কাজের দায়িত্বের কারণে, তার অনুপস্থিতি প্রকল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে না; অফিস নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে। তবে তিনি এখনও তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পুনরুদ্ধার করতে পারেননি, কারণ আঙুলের ছাপ না মেলায় জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আদালতে জব্দ হওয়া মোবাইলের মুক্তির জন্য তাকে আইনজীবীর ফি হিসেবে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এ ধরনের অপরাধের শিকারদের জন্য আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। হাদীদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা, আর্থিক বোঝা এবং প্রয়োজনীয় নথি পুনরুদ্ধারে সমস্যার সম্মুখীন হন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা দাবি করেন, অপরাধের প্রবণতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে ত্বরান্বিত হওয়া দরকার। নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন, রোড প্যাট্রোল বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে, শিকারদের দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান এবং তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা সমাজের নিরাপত্তা বোধকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
বনানী অঞ্চলে ঘটিত এই ছিনতাই ঘটনা এবং দেশের সামগ্রিক অপরাধ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান উভয়ই নির্দেশ করে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন তাত্ক্ষণিক প্রয়োজন। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।



