অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কালেক্টরেট চত্বরে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার সভায় ‘হ্যাঁ ভোট’ দিতে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটারদেরকে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, সন্ত্রাসবিরোধী এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিতদেরকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিকের হ্যাঁ ভোট অপরিহার্য। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি জেলার হ্যাঁ ভোটের হার সরকার পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হয়।
নুরজাহান বেগম দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বর্তমান অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে, এই দুই ক্ষেত্রের সংস্কারের জন্য সৎ ও সক্ষম পার্টি ও প্রার্থীদের সমর্থন করার গুরুত্ব জোর দেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী প্রার্থীদেরই ভোটারদের আস্থা অর্জন করা উচিত।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন এবং নুরজাহানের বক্তব্যে সমর্থন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সরকারকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সভার সূচনা করেন এবং ভোটারদেরকে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন নুরুল আমিন, পুলিশ সুপারintendেন্ট সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। যদিও কোনো বিরোধী দলের সরাসরি মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, তবে উপস্থিত বিএনপি প্রতিনিধিরা নুরজাহানের আহ্বান শোনার পর প্রশ্নোত্তর সেশনে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন।
বিএনপি প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তারা জোর দিয়ে বলেন যে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা উচিত। তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কারের জন্য নির্দিষ্ট নীতি ও বাজেটের বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানায়।
নুরজাহান বেগমের বক্তব্যের পর, উপস্থিত কর্মকর্তারা ভোটারদেরকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা শেয়ার করেন। ভোটারদেরকে ভোটার কার্ড সংগ্রহ, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ভোটের দিন সঠিক সময়ে ভোটদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই সভা ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গণভোট প্রচার ক্যারাভান চালু করার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সরকার ভোটারদেরকে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক উন্নয়নের দিক থেকে একতাবদ্ধ করার লক্ষ্য রাখে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জের মতো জেলা পর্যায়ে এই ধরনের প্রচারমূলক সভা ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এবং ভোটের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। হ্যাঁ ভোটের প্রতি জোর দেওয়া এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতের সংস্কারের আহ্বান ভবিষ্যৎ সংসদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নুরজাহান বেগমের ‘হ্যাঁ ভোট’ আহ্বান সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভোটারদেরকে একতাবদ্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



