27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি এক বছর পরও বাস্তবায়িত হয়নি

ট্রাম্পের ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি এক বছর পরও বাস্তবায়িত হয়নি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সূচনা থেকে ধারাবাহিকভাবে দাবি করেন, যদি তিনি আবার প্রেসিডেন্ট হন তবে যুদ্ধ এক দিনের মধ্যেই থেমে যাবে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি জানিয়ে দেন, আলোচনার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। এরপরের কয়েক মাসে এই বক্তব্য বিভিন্ন মঞ্চে পুনরাবৃত্তি হয়; মে ২০২৩-এ সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে তিনি রুশ ও ইউক্রেনীয়দের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে দেখতে পান এবং একদিনের মধ্যে তা থামানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানে তিনি আরও জানান, যুদ্ধ থামানোর জন্য তার কাছে ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ আছে, যদিও তা প্রকাশ না করা হয়।

সিএনএনের ফ্যাক্টচেক অনুসারে, ২০২৩‑২৪ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় ট্রাম্প কমপক্ষে ৫৩ বার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরে এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করবেন। বিশ্লেষকরা এই দাবিকে রাজনৈতিক রেটোরিক হিসেবে চিহ্নিত করে, বাস্তবিক সম্ভাবনা না থাকায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রথম কাজ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেন। তবে ২০ জানুয়ারি ২০২৫, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ট্রাম্পের বিশেষ দূত হিসেবে কেইথ কেলগকে নিয়োগ করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ১০০ দিনের মধ্যে সমাধান খুঁজে বের করা, তবে সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও সংঘাত অব্যাহত থাকে।

এপ্রিল ২০২৫ শেষে টাইম সাময়িকীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে তার ‘প্রথম দিনের’ প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তিনি তা ‘গুরুত্ব দিয়ে’ উল্লেখ না করার কথা বলেন। পূর্বের বক্তব্যে তার দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের তুলনায় এই মন্তব্যটি তার অবস্থানের পরিবর্তন নির্দেশ করে। ট্রাম্প এখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যে ‘অকল্পনীয় ঘৃণা’কে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি কখনো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেন, আবার কখনো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে তীব্র সমালোচনা করেন।

এই ধারাবাহিক পরিবর্তন এবং বাস্তবায়নহীন প্রতিশ্রুতি দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের নীতি ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তার সমর্থকরা এখনও তার শক্তিশালী নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখলেও, বিরোধীরা তাকে অপ্রায়োগিক রেটোরিকের জন্য সমালোচনা করছেন। ইউক্রেনীয় সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার স্পষ্টতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে, কারণ যুদ্ধের অবসান এখনো দূরবর্তী।

ভবিষ্যতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান কিভাবে প্রভাবিত হবে তা অনিশ্চিত। যদি তিনি আবার প্রেসিডেন্ট হন, তার পূর্বের অমীমাংসিত প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবিক পদক্ষেপের অভাব তার আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা দাবি করেন, তার দৃঢ় রেটোরিক এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত ফল দিতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান এখনও অনিশ্চিত, এবং ট্রাম্পের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে; কংগ্রেসের সদস্যরা ট্রাম্পের নীতি ও কূটনৈতিক কৌশল পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরিবর্তে বিদ্যমান কূটনৈতিক চ্যানেল ও শান্তি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুদ্ধের অব্যাহত থাকা এবং ট্রাম্পের অপ্রমাণিত প্রতিশ্রুতি উভয়ই ভবিষ্যৎ নির্বাচনী লড়াইয়ের সময় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments