কালীগঞ্জ বাইপাসের বাঘারপাড়া এলাকায় সোমবার রাত প্রায় ৮টায় একটি ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ৩৮ বছর বয়সী চিকিৎসক মিশুক ভট্টাচার্য প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলটি কালীগঞ্জ থানা অধীনে এবং স্থানীয় পুলিশ অফিসার মো. জাকির হোসেনের মতে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিশুক ভট্টাচার্য চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর গ্রাম থেকে, পিন্টু ভট্টাচার্যের পুত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা শহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন এবং নরসিংদী পলাশ উপজেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেন।
দুপুরের কাজ শেষ করে মিশুক স্কুটার চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। তিনি যখন বাঘারপাড়া সড়কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তার গাড়ির সামনে হঠাৎ থেমে গিয়ে তাকে আঘাত করে। ভ্যানের গতি ও দিক পরিবর্তনের ফলে স্কুটারটি নষ্ট হয়ে গিয়ে মিশুক গুরুতরভাবে আহত হন।
সাক্ষী জানিয়েছেন, ধাক্কা ঘটার মুহূর্তে মিশুকের দেহে রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি মাটিতে অচল হয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে তাড়া করে, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং কাছাকাছি অবস্থিত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা মিশুককে জরুরি শোয়ায় ভর্তি করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন শুরু করেন। চিকিৎসা দলের মতে, আঘাতের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে মাথা ও পেটের অংশে গুরুতর চোট পেয়েছেন।
ডাক্তার রাবেয়া নার্গিস জাহান, যিনি কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক, জানান যে মিশুকের শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে এবং রক্তচাপ অস্থিতিশীল হয়ে যায়। তিনি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মিশুককে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পিকআপ ভ্যানের চালকের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স চেক করা হবে।
আইনি দিক থেকে, হোসেনের মতে, দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল উপস্থিত রয়েছে, যা গাড়ির ব্রেক, গতি এবং ট্রাফিক সিগন্যালের অবস্থা বিশ্লেষণ করবে।
স্থানীয় প্রশাসনও দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে, রাস্তায় গতি সীমা ও নিরাপত্তা চিহ্নের পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে। নিকটবর্তী এলাকায় গত কয়েক মাসে অনুরূপ ট্রাফিক দুর্ঘটনা ঘটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এই ঘটনার পর, নরসিংদী স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিশুকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিবার বর্তমানে শোকাহত, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানাচ্ছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায় প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। এ পর্যন্ত, মিশুক ভট্টাচার্যের মৃত্যু একটি শোকের বিষয় এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।



