কাবুলের শার-ই-ন বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁতে গত রাতের দিকে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় মোট সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে চীনের একজন নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। বাকি শিকারেরা সকলেই আফগান জাতীয়।
আইসিআইএল (ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর মাধ্যমে আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের কাছে বসে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।
বিস্ফোরণস্থলটি চীনের এক মুসলিম নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় অংশীদারদের যৌথভাবে পরিচালিত রেস্তোরাঁ ছিল। এই রেস্তোরাঁটি শহরের অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী বলে ধরা হয়। তবে এই রাতের ঘটনা দেখিয়েছে যে, এমনকি নিরাপদ স্থানে ও হিংসাত্মক আক্রমণ ঘটতে পারে।
আফগান পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানান, রেস্তোরাঁটি শার-ই-ন বাণিজ্যিক জেলায় অবস্থিত, যেখানে বিভিন্ন অফিস ভবন, শপিং কমপ্লেক্স এবং দূতাবাসের সমাবেশ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বললেন যে, এই অঞ্চলটি দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ফরেনসিক দলগুলো ধ্বংসাবশেষ থেকে বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেছে এবং সিবিএস (বৈদ্যুতিক সিগন্যাল) বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, আইসিআইএল-কে লক্ষ্য করে চলমান গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য আদালতে মামলার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে এবং শিকারের পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। নিরাপত্তা বিভাগে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরণস্থল ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন, পাশাপাশি শহরের অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু স্থানে সতর্কতা বাড়ানো।
কাবুলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে, যার মধ্যে গাড়ি বিস্ফোরণ এবং আত্মঘাতী বোমা হামলা অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাবাহিক হিংসা দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আইসিআইএল-কে সম্পূর্ণরূপে দমন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক পরিকল্পনা চালু করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের আক্রমণ রোধে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনসাধারণের স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ক্যামেরা, গেটকিপার এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল স্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার পর, কাবুলের নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত দেখা দিয়েছে, তবে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। রেস্তোরাঁর মালিক ও কর্মচারীদের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে।
বিস্ফোরণ ঘটার পর থেকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীও কাবুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে। আইসিআইএল-কে লক্ষ্য করে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



