নজিপুর পৌরসভার জিরোপয়েন্ট এলাকায় গত সন্ধ্যায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় মা ও মেয়ে প্রাণ হারিয়ে, বাবা গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কৌসার হোসেন তার স্ত্রী খাতিজা ও মেয়ে ফাতেমা নিয়ে গ্রাম বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।
কৌসার হোসেনের গাড়ি যখন ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল, তখন তিনি গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেলটি নড়ে গিয়ে ভাঙে। এই মুহূর্তে খাতিজা ও ফাতেমা সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায়। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খড়ি-ভরা ট্রাক তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে এবং দুজনের ওপর ধাক্কা দেয়।
ধাক্কা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাতিজা ও ফাতেমা দুজনই মৃত্যুবরণ করেন। কৌসার হোসেন সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে নিজেও আঘাত পেয়ে মাটিতে অচল হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনা ঘটার পরই আশেপাশের মানুষদের মধ্যে রাগের স্রোত দেখা দেয়। ট্রাকটি আটক করে প্রতিবাদ শুরু করা লোকজনের কারণে নজিপুর, সাপাহার, ধামইরহাট, বদলগাছী ও নওগাঁর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবাদকারীরা ট্রাকের চালককে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানায়।
প্রায় এক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শৃঙ্খলায় আনে। সৈন্যদের হস্তক্ষেপের ফলে রাস্তায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং ট্রাফিক জ্যাম শেষ হয়। এরপর স্থানীয় থানা-প্রতিবন্ধকতা ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
ট্রাকের চালককে পুলিশ গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখে। পত্নীতলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, এই ঘটনার জন্য একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর মা ও মেয়ের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মৃতদেহ হস্তান্তরের পর পরিবারকে শোক প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। মৃতদেহের শেষকৃত্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে দেহগুলোকে আত্মীয়স্বজনের হাতে দেওয়া হয়।
আহত কৌসার হোসেনের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতের প্রকৃতি ও পরিমাণের ভিত্তিতে তিনি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাকের মালিকানা ও চালকের পূর্বের রেকর্ড যাচাই করছে। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় রাস্তার অবস্থা, গতি সীমা ও ট্রাফিক নিয়মের লঙ্ঘন সম্পর্কেও তদন্ত চালু রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গতি সীমা মানা, হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাকের লোডিং নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে।



