28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শেষের পথে, রাষ্ট্র টিভি হ্যাকিং ও বিশাল প্রাণহানি

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শেষের পথে, রাষ্ট্র টিভি হ্যাকিং ও বিশাল প্রাণহানি

ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সংসদ সদস্য সোমবার জানিয়েছেন, সরকার কয়েক দিনের মধ্যে বর্তমান ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থা শেষ করার কথা বিবেচনা করছে। এই ঘোষণার আগে নিরাপত্তা বাহিনী বিশাল বলপ্রয়োগে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পরের সর্বোচ্চ অভ্যন্তরীণ অশান্তি দমন করেছে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের সময় নাগরিকদের প্রতিবাদকে দমন করতে ব্যাপক জোরদার করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো রবিবার রাতের দিকে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়, যেখানে অল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এবং ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্রের ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। উভয়ই জনসাধারণকে বিদ্রোহের আহ্বান জানায়। এই ঘটনার পর টিভি সিগন্যাল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

প্রতিবাদ শেষ হওয়ার পর এক সপ্তাহের বেশি সময়ে ইরানের শহরগুলো বেশ শান্ত দেখা যায়। সরকার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেরি ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিরোধী-সরকারি প্রতিবাদ তিন দিনের মধ্যে রক্তাক্তভাবে দমন করা হয়।

একজন সরকারি সূত্রের মতে, নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৫,০০০ এর বেশি, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০০ জন কর্মী অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি জনসংখ্যা বসতিপ্রধান এলাকায় ঘটেছে।

কুর্দি অঞ্চলগুলোতে গৃহযুদ্ধের মতো দৃশ্য দেখা গিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র দলগুলোর মধ্যে তীব্র গুলিবর্ষণ হয়েছে। এই এলাকাগুলোতে মৃত ও আহতের সংখ্যা দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি।

ইরানের কুর্দি অধিকার সংস্থা HRANA সোমবার জানিয়েছে, অনেক প্রতিবাদকারীকে মুখ ও বুকে পেলেট গুলির আঘাতে চক্ষু অন্ধত্ব, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত এবং অঙ্গের ক্ষতি হয়েছে। এই ধরনের আঘাতের ফলে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বহু নাগরিক।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অনুসারে, রবিবার থেকে বিভিন্ন শহরে গ্রেফতার বাড়ছে। তেহরান, কেরমান এবং সেমনানসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে বহু মানুষ আটক হয়েছে।

ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরায়েলি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকার এই গ্রুপগুলোকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সরকারি মুখপাত্ররা দাবি করছেন, বিদেশি শত্রুদের প্ররোচনায় গৃহীত সশস্ত্র ভিড় হাসপাতাল ও মসজিদে হামলা চালিয়ে দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে। এই অভিযোগের বিপরীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রতিবাদকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণকে মূল দায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এই মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ ও ২০০৯ সালের পূর্বের বিরোধী-সরকারি আন্দোলনের তুলনায় বহুগুণ বেশি। পূর্বের দুইটি বড় প্রতিবাদে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কয়েকশোতে সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে এখন হাজার হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পূর্বে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি শোনা গিয়েছিল, তবে বৃহৎ পরিসরের হত্যাকাণ্ড থেমে যাওয়ার পর তিনি এই হুমকি প্রত্যাহার করেন। তার এই মন্তব্য গালফ দেশগুলোকে বৃহত্তর সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন করেছিল।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ইন্টারনেট বন্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি ও তথ্য প্রবাহের পুনরায় শুরু সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে। তবে গ্রেফতার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবেলা করবে, তা ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments